ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্ন তৎপরতা জারি রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু তারপরও বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না মানুষজন।
বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ধসের শঙ্কায় বুধবার বিকেলেই আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সতর্কতা জারি করা হয়। প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যেতে ওইদিন বিকেল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জেলা প্রশাসক এবং সিটি করপোরেশনের টিম।
এরি মধ্যে চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। কিন্তু পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসবাসকারীরা বাড়িঘর ছেড়ে সরছে না।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা স্কুল-মাদ্রাসায় যারা আশ্রয় নেবে তাদের জন্য সুপেয় পানি ও খাবারের ব্যবস্থা কর হবে।
কিন্তু নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষদের আশঙ্কা, তারা বাড়িঘর ছেড়ে গেলে, তাদের সহায়-সম্বল হারানো বা চুরির হতে পারে। এই অবস্থায় তারা সরতে চাচ্ছেন না।

বুধবার ভোরে কক্সবাজারে আলাদা পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই বাংলাদেশি ও আট রোহিঙ্গাসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন, বিধ্বস্ত হয় কয়েক ঘরবাড়ি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সঙ্গে হতে পারে ভারি বৃষ্টিপাত।
এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম ও সিলেটে জারি করা হয় সতর্কবার্তা।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে উজান নেমে আসা পানি ও প্রবল বর্ষণে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগ পড়েছে মানুষ।
ওই দুই জেলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। গবাদি পশু, পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধস, নিহত বেড়ে ১০