কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় দুষ্কৃতকারীদের নাশকতায় রেল চলাচল বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রেলওয়ে। নাশকতার কারণে ১৮ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় রেলের আর্থিক ক্ষতি ৩৮ কোটি টাকা। চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন এ ক্ষতি বাড়ছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকেট কেটেছিলেন বিটু। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তার কথা ভেবে টিকেটের টাকা ফেরত নিতে এসেছেন তিনি। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম স্টেশনে তার মতো অনেক যাত্রী আসছেন টাকা ফেরত নিতে।

কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দুর্বৃত্তরা ঢুকে পড়ায় শুরু হয় ভাংচুর-ধ্বংসযজ্ঞ, যা থেকে রেহাই পায়নি রেলওয়েও। পূর্বাঞ্চলীয় রেলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী ও তদন্ত কমিটির প্রধান সুশীল কুমার হালদার জানান, পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বিভিন্ন স্থানে চারটি ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৪০টি কোচ ভাঙচুর করা ছাড়াও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে চারটি বগি। এতে ক্ষতি হয় পাঁচ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জামান জানান, এক পর্যায়ে ১৮ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে রেলওয়ে। আর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তিন কোটি টাকা লোকসান দেয় পূর্বাঞ্চলীয় রেল। এই হিসাবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ ৩৩ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, ট্রেনে ভাঙচুর, আগুন আর ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখায় ২৮ জুলাই পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় রেলের ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে ফেরত দিতে হবে যাত্রীদের কেনা টিকিটের ১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এখনও বন্ধ আছে যাত্রীবাহী ট্রেন। তবে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন স্থানে শুধু জ্বালানী তেলবাহী ট্রেন চলাচল করছে।
ছয়দিন পর বরিশাল-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু