ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উদ্ধার হওয়া একটি শক্তিশালী মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বড়হরণ গ্রাম থেকে উদ্ধারের পর বড়হরণ গ্রামের নোয়াগাঁও কবরস্থানের পার্শ্ববর্তী পুকুরপাড়ে এটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এর আগে গত রোববার (২৯ মার্চ) বড়হরণ গ্রামের ভাষা সৈনিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাড়িতে পুকুর খননের কাজ করার সময় শ্রমিকরা এই মর্টার শেলটি খুঁজে পান। উদ্ধারের পর থেকে গত চার দিন এটি পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছিলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাষা সৈনিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাড়িতে পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছিলো। গত রোববার দুপুরে শ্রমিকরা কোদাল দিয়ে মাটি কাটার সময় হঠাৎ ধাতব বস্তুটি দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ এসে এলাকাটি ঘিরে রাখে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে আসা চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মর্টার শেলটি সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে নিয়ে জনশূন্য স্থানে নিষ্ক্রিয় করে।
উদ্ধার অভিযান শেষে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক মো. মোদাচ্ছের কায়সার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এটি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ছোঁড়া হয়েছিলো, যা কোনো কারণে অবিস্ফোরিত থেকে যায়। সব ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে এটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আর কোনো ঝুঁকি নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মর্টার শেলটি পাওয়ার পর থেকেই আমরা সেটিকে নিরাপত্তার বেষ্টনীতে রেখেছিলাম যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটিকে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে।
দীর্ঘদিন পর মাটির নিচ থেকে এমন যুদ্ধকালীন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও সফলভাবে তা নিষ্ক্রিয় করায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।
