পার্বত্য অঞ্চল সাজেকে দুই আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধ ও আতঙ্কের উত্তাপ ঠেলে সেনাবাহিনীর সার্বিক সহায়তায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের প্রথম বহর নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী দীর্ঘ গাড়িবহরটি সেনাসুরক্ষায় খাগড়াছড়ি শহরে এসে পৌঁছায়।
এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি পর্যটক। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে একাধিক স্থানে অবরোধকারীদের বাধা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সম্মুখীন হলেও সেনাবাহিনীর বিশেষ পাহারায় কারণে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে পর্যটকেরা গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। সকালে তাদের নিরাপদে নামিয়ে আনতে অগ্রভাগে থাকে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ও নিরাপত্তার গাড়িবহর। ঢাকা, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা জানান, ফেরার পথে অন্তত দুটি স্থানে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
তবে সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়ে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং দ্রুত পথ ফাঁকা করে পর্যটকবাহী যানবাহনগুলোকে পার করে নেয়।
ঘুরতে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ে চরম দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকেরা। ঢাকা থেকে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম ও হবিগঞ্জের অপু জানান, ছুটির আনন্দে সাজেক গেলেও বুধবার সন্ধ্যা থেকেই নানামুখী গুঞ্জন ও অবরোধের খবরে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সাজেক ছাড়তে হওয়ায় অগ্রিম দেওয়া গাড়ি ভাড়া ও বাসের টিকিট পুনঃবুকিং করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পাহাড়ের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ নামের দুটি সংগঠনের ডাকা সড়ক অবরোধ। স্থানীয়ভাবে পরিচিতি রয়েছে যে সংগঠন দুটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপ ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর সমর্থিত। তাদের মূল দাবি, সাজেক এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র সংগঠন পিসিজেএসএস (সন্তু গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেয়া এবং স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, গত কিছু দিন ধরে পিসিজেএসএস’র সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। তবে এ বিষয়ে আঞ্চলিক এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আঞ্চলিক দলগুলোর এই মুখোমুখি অবস্থান ও আন্দোলনের ফলে আপাতত থমকে গেছে সাজেকের স্বাভাবিক পর্যটন ব্যবস্থা।
