কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আপলাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিট থেকে এই লাইনে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি নাঙ্গলকোট উপজেলার নাওটি ও লাকসামের আজগরা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ চারটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটটির আপলাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যদিও বিকল্প হিসেবে ডাউনলাইন দিয়ে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল বজায় রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী সামান্য আহত হন এবং তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
দুর্ঘটনার পর সকালেই লাকসামে রিলিফ ট্রেন পৌঁছালেও মূল উদ্ধার কাজ শুরু হয় বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম থেকে আসা শক্তিশালী উদ্ধারকারী ট্রেনের মাধ্যমে। টানা প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে লাইনচ্যুত বগি ও ইঞ্জিন লাইনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি লাকসাম জংশনে টেনে আনা হলে আপলাইনটি চলাচলের জন্য নিরাপদ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, এই দুর্ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় রেলওয়ের ফেনীর জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সাথে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু ইমতিয়াজ রাফি, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং বিভাগীয় সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আশিকুর রহমান। তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
