গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চলাকালে এক শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে ভোগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই শ্রমিকের নাম রাসেল হাওলদার (২২)। তিনি নগরীর মালেকের বাড়ি এলাকার ডিজাইন এক্সপ্রেস লিমিটেডের ইলেট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ঝালকাঠির সদরে বিনাইকাঠি গ্রামে। তিনি গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন কলম্বিয়া কারখানার পাশের নুর আলমের বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন।
শ্রমিকরা জানান, বেতন বাড়ানোর দাবিতে সকালে ভোগড়াসহ আশপাশের এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ডিজাইন এক্সপ্রেস লিমিটেড কারখানা ছুটি দেয়া হয়।
এ সময় পুলিশ আন্দোলনরত অন্য কারখানার উশৃঙ্খল শ্রমিকদের ওপর গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তখন রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়। প্রথমে তাকে তায়ারুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তারেক হাসান জানান, হাসপাতালে একজন গার্মেন্ট কর্মীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার গলা ও শরীরে ছোট ছোট গোলাকার লাল রঙের দাগ ছিল। আবার হাতেও পুরোপুরি ব্যান্ডেজ করা ছিল। মরদেহ পুলিশের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়না তদন্ত করানো হবে।
তিনি বলেন, ওই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে মনে হয়নি। তবে ময়না তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানার ওসি মো. আবু সিদ্দিক জানান, পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এক পর্যায়ে তারা একটি সিকিউরিটি কোম্পানির গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গুলিবিদ্ধ হয়ে কেউ মারা গেছেন এমনটা তার জানা নেই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, রাসেলের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
নাটোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন