পথের ভোগান্তিকে ইবাদতের অংশই মানেন মুসল্লিরা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম

মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন লাখো মুসল্লি। মোনাজাত শেষে তাদের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ ট্রেনের ছাদে বা ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরেছেন। আসা যাওয়ার পথের এই ভোগান্তিকেও ইবাদতের অংশ মনে করেছেন তারা। আবার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে পারায় বেশ আক্ষেপও জানিয়েছেন অনেক মুসল্লি।

রোববার সকাল ৯টা ০১ মিনিটে শুরু হয় এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত। আর শেষ হয় ৯টা ২৩ মিনিটে। এ সময় বিশ্ব মুসলিম উম্মার হেদায়েত ঐক্য শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে টঙ্গীর তুরাগ পাড়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মুসল্লিরা। সবাই ইহলোকের মঙ্গল ও পরলোকের ক্ষমা প্রার্থনা করে চাইলেন সুখ ও সমৃদ্ধি। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়ের।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে আগের দিন রাত থেকেই টঙ্গীর পথে মুসল্লিদের ঢল নামে। ইজতেমা মাঠে জায়গা না পেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, কামারপাড়া সড়ক, আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয় হাজারো মানুষ। তাতে ওইসব এলাকায় স্বাভাবিক যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। দশ কিলোমিটার হেঁটেও অনেকে ইজতেমা মাঠের কাছাকাছি পৌঁছান।

ইজতেমার মাঠে যাদের জায়গা হয়নি, আশপাশের বাসাবাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ কিংবা করিডোর, সড়কের পাশে ফুটপাতে এমনকি গাছতলায় এসে তারা মোনাজাতে হাত তুলেছেন। মূল ইজতেমা ময়দানে নারীদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে ময়দানের বাইরে খালি জায়গায়, কলকারখানা ও বসত বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বহু নারী।

আখেরি মোনাজাত শেষে শুরু হয় নিজ ঠেকানায় পেলা। সড়ক ও মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরেছেন মুসল্লিরা। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউবা বাড়ির পথ ধরেছেন। এতে টঙ্গীর তুরাগ তীর ও আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। যান চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম ধীরগতি। তুরাগ নদের আশপাশের সব সড়কেই নামে মানুষের ঢল। অনেক যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের পথ ধরেন।

বেলা সাড়ে দশটার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেয়া গেলো, টঙ্গী থেকেই ছাদসহ কানায় কানায় পূর্ণ মোনাজাত স্পেশালের ট্রেনটি যখন বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায় তখনো দুই পাশের প্লাটফর্মে অপেক্ষায় হাজারো মুসল্লি। বেলা বারোটার আগে এই স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার আর সুযোগ পাননি কেউই। তবে সেখানে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনেছেন অনেক মুসল্লি।

ঢাকা থেকে গাজীপুরসহ অন্যান্য জেলার সঙ্গে সব ধরনের যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকায় মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে ভ্যানে অথবা পিকআপে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন। মোনাজাত শেষে ইজতেমা ময়দান থেকে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্টেশনে পৌঁছে ঝুঁকি নিয়ে যারা ট্রেনে উঠতে পেরেছেন পথের এই বিড়ম্বনাকে তারা দেখছেন ইবাদতের অংশ হিসেবে।

তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। শুক্রবার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম পর্বের ইজতেমা। এ পর্বে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা হবে ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি। এ পর্বে নেতৃত্ব দেবেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা।

এআরএস
দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের তত্ত্বাবধানে তৃতীয় ধাপের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছে।
প্রতি বছরের মত এবারও ইজতেমা থেকে দ্বিনের দাওয়াতে বের হচ্ছেন তাবলিগ জামাতের একটি দল। এবারের সংখ্যা ৩৫ হাজার। এরকম উদ্যোগের ফলে তুরাগ পাড়ে বিশ্ব ইজতেমায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাড়ছে মুসল্লির সংখ্যা।...
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে দ্বিতীয় ধাপে আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে প্রথম পর্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
দেশের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম ধাপ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর