ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও সেতু মেরামতের কাজ চলছে। এতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন চালকরা। ঈদের আগে এসব কাজ শেষ হবে কিনা তাও নিশ্চিত করতে পারেনি সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা। তবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বলছেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন নিরাপদে যাতায়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মানিকগঞ্জ অংশে রয়েছে ৩২ কিলোমিটার।
মঙ্গলবার সরেজমিন, ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কটিতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদের আর কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলছে সড়ক উন্নয়ন কাজ। পাশাপাশি করা হচ্ছে সড়ক সংস্কার ও সেতু মেরামতের কাজও। এতে সংস্কার কাজের এলাকায় যানবাহনগুলো এক লেন দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে ক্ষণে ক্ষণে মহাসড়কে তৈরি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছে যানবাহনের যাত্রীরা।
এদিকে মহাসড়কের ধামরাই উপজেলার জয়পুরা সেতুর সংস্কার কাজের কারণে একমুখী যানবাহন চলাচল করায় উভয় দিকের যানবাহনগুলোকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা দূরপাল্লার যানবাহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের ঈগল পরিবহন কাউন্টারে অপেক্ষায় থাকায় যাত্রী সামেলা বেগম বলেন, সাতক্ষীরা যাওয়ার উদ্দেশে সকাল আটটা থেকে টিকেট কেটে কাউন্টারে বসে আছেন। সকাল ৯টায় গাড়ি আসার কথা থাকলেও জয়পুরা এলাকায় সেতুর কাজের কারণে দেড় ঘণ্টা পর এসেছে।
সামেলা বেগমের মতো অন্য একই ভোগান্তিতে অন্য যাত্রীরাও। তারা জানান, সারা বছর সংস্কার কাজ না করে ঈদের সময় এসব কাজ করা হয়। এতে ভোগান্তি বাড়ে। এখনো ঈদের বাকি ৯দিন। আর কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদযাত্রার যানবাহনের চাপ বাড়বে। সড়কে সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ না হলে ভোগান্তির শিকার হবে ঘরমুখো হাজারও মানুষ।

সড়ক সংস্কার কাজের বিষয়ে সওজ মানিকগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জ অংশের ৩২ কিলোমিটার সড়কে ছয়টি অংশে সড়ক উন্নয়নে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া নতুন দুইটি সেতুর কাজও শেষ হয়নি। ঈদের আগে এসব সংস্কার ও সেতুর কাজ শেষ করতে দ্রুত গতিতে কাজ করা হচ্ছে।
অপরদিকে ঈদযাত্রায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ফেরিঘাটে মানুষের নিরাপত্তা জোরদার ও যানজট নিরসনে এক হাজার ২০০ পুলিশ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান। এদের মধ্যে আট শতাধিক পোশকধারী ও বাকিরা সাদা পোশাকে নিয়োজিত থাকবে।
মহাসড়কের নয়াডিঙ্গি, বানিয়াজুরী, বরংগাইল, টেপরা, পাটুরিয়া ফেরিঘাট, আরিচা ফেরিঘাটসহ ৯টি স্থানে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে আলাদা মতবিনিময় সভা করে ঈদে মহাসড়কে যানজট নিরসন, অতিরিক্ত বাস ভাড়া রোধ, যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধ ও ফেরিঘাট দিয়ে নির্বিঘ্নে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে পুলিশ কাজ করবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার বলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, পরিবহন মানিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছেন। ঈদের সপ্তাহ খানেক আগেই সড়কের কাজ শেষ করতে সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ফেরিতে নির্বিঘ্নে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোসহ সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শাহ খালেদ নেওয়াজ।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৮টি করা হয়েছে। পাঁচটি ঘাটের মধ্যে আলাদা আলাদা যানবাহন পারাপারের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পাহাড় কেটে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ