মাদারীপুরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শকুনী লেকের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে গেছেন দুই আন্দোলনকারী। এদের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এরপর উদ্ধার কার্যক্রম চালানো শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। দুপুর একটার দিকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। চলমান কোটা আন্দোলনে গত কয়েকদিনের সহিসংতায় এ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হলো।
নিহত দিপ্ত দে (২১) শহরের মাস্টার কলোনী এলাকার স্বপন দের ছেলে এবং মাদারীপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নিহত দিপ্তর লাশ নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কোটা বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাদারীপুর শহরের ডিসি ব্রিজ এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। পরে পাশের জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় তারা। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে ছয়জনকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। পরবর্তীতে ছত্রভঙ্গ হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক মো. আহাদুল ইসলাম জানায়, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শহরের শকুনী লেকের পানিতে ডুবে আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যে দুপুর একটার দিকে দিপ্তর লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া নিখোঁজ আরেকজনকে উদ্ধারে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। শহরে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে আন্দোলনকারীরা। এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
যশোরে ট্রেন আটকে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ