এক মিনিটের নাই ভরসা, কথাটা আবারও প্রমাণ করলেন ৩৬ বছরের যুবক কালাম আজাদ। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়লে এর আঘাতে নিহত হন তিনি। কেউ ভাবতেও পারেনি তরতাজা এই যুবক এক নিমিষের এক দুর্ঘটনায় এমনভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন।
কালাম আজাদের এমন ভাগ্যাহত মৃত্যুকে তাই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার থেকে শুরু করে স্বজন, বন্ধু ও দেশের মানুষ। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনের ওই দুর্ঘটনায় আবুল কালাম নিহত হবার পর, তার সবশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে নেট দুনিয়ায়।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের আব্দুল জলিল চোকদারের ছেলে আবুল কালাম। কিশোর বয়সে বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন তিনি। এরপর ভাই-বোনদের সংসারে বেড়ে ওঠেন। কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে চেষ্টা করছিলেন। পরিবারের প্রিয় মানুষটি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন।

তাঁর এমন অকালমৃত্যু মানতে পারছেন না স্বজন ও গ্রামের মানুষেরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের ওপর থেকে ভারী ধাতব যন্ত্রাংশটি নিচে পড়ে মাথায় আঘাত হানে আবুল কালামের। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ফার্মগেট এলাকায় যাতায়াত করতেন তিনি। ব্যক্তিগত কাজেও তিনি প্রায়ই ওই এলাকায় যেতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট আবুল কালাম স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় বসবাস করতেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহর বয়স ৫ বছর এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের বয়স ৩ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে পোস্ট দেন কালাম। তিনি লেখেন, ‘ইচ্ছে তো অনেক, আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম’। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের ভাবী আছমা আক্তার বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে ওর সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। বলেছিল, দু-এক দিনের মধ্যে বাড়ি আসবে, আর আমাকে ইলিশ মাছ কিনে রাখতে বলেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই শুনলাম, মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড পড়ে মারা গেছে। সংসারের হাল ধরেছিল সে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার চাই।
নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি মিয়া চোকদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই কালাম পরিশ্রমী ছিল। নিজের চেষ্টায় ঢাকায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিল। এমন আকস্মিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সরকারের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের ভাইটি মারা গেল। সরকার যেন পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।
