সাভারের আশুলিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর কাঁশবন থেকে কিশোর অটোরিকশা চালক মিলনের (১৫) ৩৮ টুকরো হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মূলত নগদ টাকার প্রয়োজনে এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মিলনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পিবিআই জানায়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোঁজ হয় মিলন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন মিলনের মা জোসনা বেগম। নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর, ১ ডিসেম্বর আশুলিয়া মডেল টাউন এলাকার একটি নির্জন কাঁশবন থেকে মিলনের ৩৮ টুকরো কঙ্কাল ও কাপড় উদ্ধার করা হয়।
পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি দেখে স্বজনেরা দেহটি মিলনের বলে শনাক্ত করেন। চলতি মাসের ১ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।
খুনের নেপথ্যে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ও মাদক
তদন্তে বেরিয়ে আসে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মিলনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রনি ও সুমন। ঋণগ্রস্ত থাকায় টাকার লোভে তারা মিলনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন বিকেলে তারা মিলনের অটোরিকশাটি ভাড়া করে আক্রান বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে কৌশলে তাকে আশুলিয়া মডেল টাউনের নির্জন কাঁশবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তিনজন মিলে গাঁজা সেবন করার একপর্যায়ে রনি ও সুমন মিলে মিলনকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশটি কাঁশবনে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার
পিবিআই গত ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাভারের আকরান বাজার থেকে মূল আসামি মো. রনি মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা কেনাবেচায় জড়িত মো. এরশাদ আলী (৩৪) এবং গ্যারেজ মালিক মো. আবুল কালামকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি সুমন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আসামিরা মাত্র ৬২ হাজার টাকায় ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রি করে দিয়েছিল। ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে তারা অটোরিকশাটির রঙও পরিবর্তন করে ফেলেছিল।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।
