নারায়ণগঞ্জের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সালিশি বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গত তিন মে রাতে বরুনা গ্রামের প্রদীপের মেয়ের বিয়ের দাওয়াত খেয়ে প্রতিবেশী মানিক দত্ত প্রাইভেটকারে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একই এলাকার আলালের অটোরিকশার সঙ্গে মানিক দত্তের প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগে।
এই ঘটনার জেরে ওই রাতেই আলাল ও তার লোকজন মানিক দত্তের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। জীবন বাঁচাতে মানিক ও তার পরিবার স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাব হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে পরদিন সোমবার মানিক দত্তকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আলাল, তার ভাই বিল্লাল ও মোমেনসহ তাদের সহযোগীরা ইউপি সদস্য আলতাবের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা আলতাবের ভাতিজা রিপন ও আমজাদকে কুপিয়ে জখম করে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য সোমবার দুপুরে বরুনা কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠক চলাকালীন উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচএম সালাউদ্দিন, প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার ধাক্কা লাগার মতো তুচ্ছ ঘটনা থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি। আলতাব মেম্বারের বাড়িতে হামলা এবং পরবর্তীতে সালিশি বৈঠকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
