কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী ও চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ছয়টার দিকে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. সেলিম মিয়া (৩৫) এবং বর্ষাগাতি গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক উজ্জ্বল (৪০)।
স্থানীয়রা জাান, সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী ‘অনন্যা পরিবহন’-এর একটি বাস বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি বাইসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের তীব্র ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সেলিম মিয়া মারা যান।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালক উজ্জ্বলসহ অপর এক যাত্রী ও এক সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে অটোরিকশাচালক উজ্জ্বলের মৃত্যু হয়।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বায়েজিদ মাহমুদ জানান, একজনকে হাসপাতালেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিলো। বাকিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনায় আহত অন্য দুজন হলেন বরাটিয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে রেনু মিয়া এবং পাকুন্দিয়া এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে ছোটন মিয়া।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, অনন্যা পরিবহনের চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমন্ত অবস্থায় দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন বলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
