বগুড়ার এরুলিয়া এবং সিলেটের ওসমানীনগরে আলাদা দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় দিনমজুরসহ সাতজন এবং সিলেটে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। এই আলাদা দুই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে ও সকালে দুটি মহাসড়কে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ঘটে প্রথম দুর্ঘটনাটি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানাচ্ছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টার দিকে সিল্কিবান্দা এলাকায় পৌঁছায়। বৃষ্টির কারণে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। একই সাথে সেখানে কাজের সন্ধানে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে থাকা দিনমজুরদের চাপা দেয় বাসটি।
বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ইসলাম (৫০) ও নূর আলম (৫০); জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার; গাইবান্ধার আবদুস ছামাদ এবং বগুড়া সদরের ফাঁপোড় এলাকার বেলাল হোসেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান জানান, নিহতদের প্রায় সবাই স্থানীয় ও শ্রমজীবী মানুষ। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়ে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বগুড়ার দুর্ঘটনার খবর মিলতে না মিলতেই সিলেটের ওসমানীনগরে ঘটে দ্বিতীয় ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঢাকা থেকে সিলেটগামী 'ইউনিক পরিবহন'-এর বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক সিলেট থেকে ঢাকাগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি ছিটকে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইউনিক পরিবহনের ৯ জন যাত্রী নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৫ জন যাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারুক মিয়া (৫২) জানান, তিনি তার অন্য বন্ধুদের সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। ঘুমের ঘোরে বিকট শব্দে তার ঘুম ভাঙে এবং পরে তিনি নিজেকে আহত অবস্থায় পান। এই দুর্ঘটনায় তার বন্ধু ও পেশায় ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম মারা গেছেন।
ওসমানীনগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা ও শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চার বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
সিলেটে যাত্রীবাহী দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত ১৫