মহান মুক্তিযুুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখতে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তের গারো পাহাড়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের মেঘাদল বাজার (শয়তান বাজার), বাবলাকোনা, হারিয়াকোনা এলাকায় কলাপাতায় পুরো শরীর মুড়িয়ে ভিক্ষুক সেজে এই উদযাপন করা হয়।
কেন এমন উদযাপন
মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে সীমান্তের ওপারে অবস্থান নেয় বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা। এসময় গারো পাহাড়ের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেয় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা। বাঙ্কার খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য প্রস্তুত থাকে ঘাতকরা। এছাড়া নিয়মিত টহল দিতো তারা। এ অবস্থায় নানা ছদ্মবেশে তথ্য যোগাড় করে মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার লোকজন খবর পৌঁছাতো ওপারের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে। এর মধ্যে অনেকেই কলাপাতা মুড়িয়ে ভিক্ষুক সেজে ভিক্ষা করতো আর পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের অবস্থান চিহ্নিত করে খবর পৌঁছাতো মুক্তিযোদ্ধাদের। একই সঙ্গে খাবারও জোগাড় করতো তারা। এসব খবরে নিশ্চিত হয়ে গেরিলা যুদ্ধে এসে অনেক পাকিস্তানি সেনা ও বিহারিকে হত্যা করে এই এলাকা শক্রমুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
সেই কৌশল পরিণত হলো রেওয়াজে
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এসব এলাকায় মহান বিজয় দিবসে কলাপাতায় মুড়িয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে তা রান্না করে খাওয়ার কর্মসূচি উদযাপন করে আসছে। এ বছরও এমন আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর এখন এটা উদযাপন এক রকম রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধের সেই দিনগুলো নিয়ে যা জানালেন স্থানীয়রা
মেঘাদল এলাকার মুছা মিয়া বলেন, যুদ্ধের সময় অনেকেই পাগল সেজে ভিক্ষার নামে তথ্য সংগ্রহ করতো। আর সেই তথ্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দিতো।
একই এলাকার গৃহিনী সালমা বেগম বলেন, প্রতি বছর বিজয় দিবসের এই দিনে যুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে পুরো শরীর কলাপাতায় ঢেকে পাগল সেজে ভিক্ষা করতে আসে এবং আমরা চাল, টাকা এসব দেই।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কাঞ্চন মারাক বলেন, ছদ্মবেশিদের দেওয়া খবরে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের বাড়ির কাছে পাকিস্তানের দোসর একজন বিহারিকে হত্যা করে। পরে অন্য বিহারিদেরও হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই বিজয় দিবসে এ আয়োজন করা হয়। এবার আমরা এ আয়োজন করলাম, সামনে আরও ভালো করে করবো।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নানাভাবে আমরা তথ্য সংগ্রহ করতাম। খেতকামলা সাজতাম, ভিক্ষুক সাজতাম, পাগল সাজতাম। তথ্য নিয়ে গিয়ে হামলা করতাম। গারো পাহাড়ে জঙ্গলে বেশ ঝুঁকি ছিল।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জিএম বলেন, প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয়। তবে, এবারই বড় পরিসরে উৎসবমুখর পরিবেশে করা হয়। আগামীতেও এ আয়োজন আরও সুন্দর করা করার ইচ্ছা আছে।
তেঁতুলিয়ায় পারদ দশের নিচে, ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন