শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এবার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে দুইটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২৪৪ জনের নামে এবং ৮০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংঘর্ষে আহতরাই মামলা করেছেন। আর জামায়াত নেতাদের দাবি, উল্টো চাপে রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে মামলাগুলো করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন জামায়াতে নেতারা।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিজানুর রহমান ভূঁয়া সাংবাদিকদের জানান, ঝিনাইগাতী সিআর আমলি আদালতে ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচুড়া গ্রামের আমজাদ ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত বাদি হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাগুলো দায়ের করেন। যার নম্বর সিআর-৬১ ও ৬২।
মামলা দুটিতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের আমির আজহারুল ইসলাম মিস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। ওই ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচুড়া গ্রামের আমজাদ ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত বাদি হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইগাতী সিআর আমলি আদালতে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
একই ঘটনায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের স্ত্রী মারজিয়া বেগম বাদি হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর ২৩১ জন নেতাকর্মীর নামে এবং ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেছেন। তবে ইতিমধ্যে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, তারা আমাদের কর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। আমরা সেই হত্যারই বিচার পাইনি। উল্টো তারা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। তারা মূলত কাউন্টার মামলা দিয়ে আমাদের কর্মীদের মাঠছাড়া করার পায়তারা করছে। তাদের উদ্দেশ্য, আসনটি নির্বাচনের সময় নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে না দেওয়া।
তিনি বলেন, আমরা আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল। বিষয়টিকে আইনিভাবে মোকাবেলা করবো।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা বলেন, আদালত থেকে ঝিনাইগাতি থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গত চার ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে আসনটিতে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনটির তফসিল এখনও ঘোষণা না হলেও ইসি সূত্রে জানা গেছে দ্রুতই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
