গবাদিপশু লালন-পালনে দেশের অন্যতম বড় জেলা সিরাজগঞ্জ। সারাদেশে চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই জেলার সদর ও শাহজাদপুর উপজেলায় গড়ে উঠেছে গবাদিপশুর কয়েক হাজার খামার।
তাপপ্রবাহের কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে খামারের গবাদিপশু। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটা-তাজা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।
রোগবালাইয়ের পাশাপাশি গরুর দুধের উৎপাদনও কমে গেছে। এমন অবস্থায় গবাদিপশুকে বেশি বেশি পানি খাওয়ানোসহ দিনে তিনবার গোসল করানোর পরামর্শ দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ বছর গবাদিপশু লালন-পালনকারীরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গরু-ছাগল। অতিরিক্ত পানি খাওয়ানোসহ দিনে তিনবার গোসল করিয়েও গবাদিপশু সুস্থ রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
খামারে এক শ্রমিক বলেন, গরু মোটাতাজ করতে গেলে আমরা ভয় পাচ্ছি। গরমে কী হবে না হবে। গরমের কারণে গরুকে তিনবার গোসল করানো হচ্ছে। তারপরেও গরুর শরীর ঠিক থাকে না।
তিনি বলেন, গরুর খাওয়া কমে গেছে। খেতে পারে না। যার ফলে দুধও কমে গেছে।
খামারিারা জানান, অতিরিক্ত গরমে গরু কাঙ্খিত মোটা-তাজা হচ্ছে না। তার উপর গবাদিপশুর খাবারের দাম বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এবার বাড়তি দামে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখবেন তারা।
এক খামারি বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে এসব সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছি। তারপওে খামারিরা লাভবান হতে পারছে না।
আরেক খামারি বলেন, দানাদার খাদ্যের দামে ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার আশঙ্কা করছি লাভ কম হতে পারে।
গরমের কারণে গবাদিপশু রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওমর ফারুক। তবে এ নিয়ে খামারিদের সহযোগিতা দিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ তৎপর আছে বলে জানান তিনি।
একাত্তরকে তিনি বলেন, নিরাপদ উপায়ে খামারিরা যাতে গবাদিপশু পালন করতে পারেন সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে এ বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় মজুদ আছে ছয় লাখ ২৪ হাজার গবাদিপশু। জেলার দুই লাখ ১৭ হাজার গবাদিপশুর চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছে, কোরবানির জন্য এবার প্রস্তুত আছে এক কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি পশু, যা গতবারের চেয়ে চার লাখ ৪৪ হাজার ৩৪টি বেশি।
আর এক কোটি সাত লাখ দুই হাজার ৩৯৪টি পশুর চাহিদা থাকতে পারে বলে সম্ভাবনার জায়গা মন্ত্রণালয় ধরে রেখেছে বলে জানান তিনি।
কোরবানি উপলক্ষে সারাদেশে এ বছর তিন হাজার পশুর হাট বসবে এবং এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ২১টি হাট থাকবে।
