সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের নামে লিখে দেওয়ায় এক মৃত ব্যক্তি দাফন আটকে দেন দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনরা। পরে মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ডাকা হয় সালিস। সিদ্ধান্ত হয় উভয়পক্ষের মধ্যে জমির সমবণ্টনের পর মরদেহ দাফন হবে, তার আগে নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তবে এর আগেই কায়দা করে প্রথম স্ত্রীর ছেলেরা জমি বাগিয়ে নিয়েছেন।
ঘটনাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মরাপাগলা এলাকার।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে মাজেদ বিশ্বাসের প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে হামফুল বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে মাজেদ বিশ্বাস অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হন। প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বার চিকিৎসার কথা বলে তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যান এবং সেখানে বাবার সম্পত্তি তাদের নামে লিখে নেন।
এরপর গত ১৬ এপ্রিল মাজেদ বিশ্বাসের তালাকনামা উকিল নোটিশের মাধ্যমে হামফুল বেগমের কাছে পাঠানো হয়। তবে হামফুল বেগম সেটি গ্রহণ না করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেন। আগামী পাঁচ মে গ্রাম্য সালিসের দিন নির্ধারণ হয়। কিন্তু গত রোববার (২৭ এপ্রিল) মাজেদ বিশ্বাস রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। লাশ দাফনের জন্য তার দুই ছেলে পিতার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে এলে দ্বিতীয় স্ত্রী এলাকবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দাফনে বাধা দেন। এ ঘটনায় সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সালিসে বসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট মরাপাগলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সকাল থেকে তিন ঘণ্টা ধরে সালিস চলছে। এখন শেষ সমাধান হলো- সব জমি আইন অনুযায়ী বণ্টন হবে। কিন্তু এর মধ্যে বোন ও ভাবির সঙ্গে ঝগড়া লেগে গেছে এবং তারা সালিস মানছেন না। আমরা সুষ্ঠু বিচার এবং মরদেহ ভালোভাবে দাফন হোক এটাই চাই।
হামফুল বেগম বলেন, ২০ আগে আমাদের বিয়ে হয়। সংসারে এসে আমার সৎ ছেলেগুলোকে মানুষ করি। এখন তারা সরকারি চাকরি করে, ভালোভাবে জীবনযাপন করছে। কিছুদিন আগে ছেলেরা প্রায় ১০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছে, তাও কিছু বলিনি। তারপরে স্বামীকে হঠাৎ করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলে গেলো এবং সেখানে ছেলেরা জোড় করে তাদের নামে মাটি লিখে নিয়েছে। তারপরে আমার স্বামীর হুশ না থাকা অবস্থায় আমাকে তালাক দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমার স্বামী তালাক দেবে না। এটা ছেলেরা করিয়েছে। তাই আমি ন্যায্য বিচার চাই।
তবে এই বিষয়ে দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। উল্টো তারা এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য নিষেধ করেন এবং এক পর্যায়ে হুমকি দেন।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, মানবিক কারণে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অধিকার বঞ্চিত মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে তার সৎ ছেলেরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু গ্রামবাসী ন্যায্য বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপস মীমাংসা করেছে এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে মঙ্গলবার উভয়পক্ষের অংশীদারদের মধ্যে জমি সমবণ্টন করে তারপর লাশ দাফন হবে।
লামিয়ার মৃত্যুর চাপ নিতে পারছেন না মা-বোন, হাসপাতালে ভর্তি
ধর্ষণের অভিযোগ ইমামকে জনতার পিটুনি, মৃত্যু