বগুড়ার সান্তাহার রেলস্টেশনের অদূরে বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়া ৯টি বগি অপসারণ করা হয়েছে। এখন নতুন করে রেল লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। তবে দুর্ঘটনার পর ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। ঈশ্বরদী এবং পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বগি অপসারণের কাজ শেষ হলেও রেল লাইন স্থাপন সম্পন্ন হয়নি। ফলে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে।
রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ট্রেন থেকে নেমে সান্তাহারে আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী। বর্তমানে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে আগত যাত্রীরা সান্তাহারে নেমে ট্রেন বদল করে আক্কেলপুর ও তিলকপুর স্টেশনে গিয়ে উত্তরের জেলাগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। একইভাবে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীরা সান্তাহার স্টেশন থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীতে চলাচল করছেন। স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে সান্তাহার রেলস্টেশন থেকে সামান্য উত্তরে বাগবাড়ী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাগবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে বিকট শব্দে এর একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইনে ত্রুটি ছিলো। এ কারণে লাইনম্যান বিপদসঙ্কেত দিলেও ট্রেনচালক তা খেয়াল করেননি বা উপেক্ষা করেছেন। তাদের মতে, মূলত এই কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৪৭ জনকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অন্য আহতরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
