নীলফামারীর ডিমলায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত।
মঙ্গলবার বিকেলে আসামির উপস্থিতিতে ওই রায় প্রদান করেন নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এ.বি.এম গোলাম রসুল।
দণ্ডাদেশ পাওয়া যুবক মোতালেব হোসেন জেলার ডিমলা উপজেলার উত্তর সোনাখুলি মিলনপাড়া এলাকার সিদ্দিক আলীর ছেলে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২ এর বিশেষ পিপি (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ মে রাতে ডিমলা উপজেলার উত্তর সোনাখুলি মিলনপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী নিজ বাড়িতে লেখাপড়া করছিলেন। এসময় ওই ছাত্রীর বাবা-মায়ের বাড়িতে অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিবেশী যুবক মোতালেব তাকে ধর্ষণ করে। এসময় ওই ছাত্রী চিৎকারের চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আটকিয়ে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মোতালেবের বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার বাবা-মা। ওই ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার ডিমলা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে ডিমলা থানা পুলিশকে মামলা রুজ করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ডিমলা থানা পুলিশ ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই মামলা গ্রহণ করে।
নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিশেষ পিপি (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিমলার থানার উপ-পরিদর্শক এম.আর সাঈদ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট আসামী মোতালেব এর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পবর্তীতে আদালত ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ মামলার চার্জ গঠন করে। এরপর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আসামীর বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ৯ (১)ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত মোতালেবকে দণ্ডাদেশ দেন বলেও জানান তিনি।
নাটোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন