নীলফামারীতে স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলাকেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যবসায়ী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী পুরাতন বন্দর বাজার গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তহুরা বেগম (৩৫), আয়েশা আক্তার তানিয়া (১১) ও জারিন (৬)। আহতের নাম আশিকুর রহমান বাবু (৪০)। সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। আশিকুর স’ মিলসহ তামাক, পাট ও রসুন ব্যবসা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিউটি বেগম বলেন,আশিকুর ভাইদের বাড়ি পার হয়ে সকালে কাপড় শুকাতে যাই। ফেরার পথে দেখি আশিকুর বাড়ির দরজার সমানে পড়ে রয়েছেন। আমি দৌড়ে বাড়ির ভেতর গিয়ে ভাবী ও তার বাচ্চাদের ডাকাডাকি করি। কিন্তু তাদের কোনো সারাশব্দ না পাওয়ায় বারান্দার দিকে এগিয়ে গিয়ে রক্ত দেখতে পাই। এরপর দেখি আশিকুর ভাইয়ের গলা দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। এসময় আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আশিকুর ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং বাড়ির থাকার ঘরের বিছানায় তহুরা ভাবী ও তার দুই মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।
আশিকুরের ছোট বোন সাথী আক্তার জানান, ভাইয়া দীর্ঘ ছয় মাস ধরে কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত। শ্বশুড়বাড়ি থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে এসে ভাইয়ার খোঁজখবর নিয়ে যেতাম। কী কারণে এবং কেন এমন ঘটনা ঘটালো তার কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না।

আশিকুরের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন মোল্লা জানান, সকালে আমাকে একজন ফোন দিয়ে জানায় আশিকুর ভাই অসুস্থ। খবর পেয়ে চলে আসি। এসে দেখি ভাইকে ভ্যানে উঠানো হচ্ছে। এসময় তার গলা দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। আমাদের আরেক চাচাতো ভাইকে সঙ্গে দিয়ে তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে রংপুরে পাঠানো হয়। এরপর ভাবী ও তাদের দুই মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি বিছানায় মৃত অবস্থায় তারা পড়ে রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, আশিকুর ভাই ‘স’ মিলের ব্যবসার পাশাপাশি রসুন,পাট, তামাক এর স্টোক ব্যবসা করতেন। এবার তিনি রসুন,পাট ও তামাকে ক্রয় করে ব্যবসায় লস করেছেন প্রচুর টাকা। ব্যবসায় আর্থিক লসের পাশাপাশি ব্যাংকে ঋণ ছিল তার। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ দিন থেকে কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
নীলফামারী সদর থানার পরির্দশক তানভিরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছি। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটি ময়না তদেন্তর প্রতিবেদন হাতে পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আশিকুর মোল্লা বর্তমানে রমেক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডি পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি তানভিরুল।
