পঞ্চগড়ে নকল টাকা ও ডলারের কারবার করা একটি চক্রের ছয় জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এসময় বিপুল নকল ডলার জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নকল ডলার সীমান্ত পেরিয়ে চলে যেতো ভারতেও। নকল নোটগুলো এলো কোথা থেকে, যাচ্ছিলো কোথায় তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করে জানা যায়নি। তবে কয়েকটি সূত্র বলছে, নকল ডলারগুলো তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে নিয়ে গিয়ে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভারতে পাচার করার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরে সেনা অভিযানে নকল ডলার জব্দ ও কারবারিদের আটক করে পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা।
পরে বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে জব্দ করা নকল ডলারসহ চক্রটিকে পঞ্চগড় সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
একই সময় তাদের ব্যবহৃত মোবাইলফোন, মাদকদ্রব্য সেবনের আলামত এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
আটকরা হলেন, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠি হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগদহ দিলালপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ডিপজল (৪২), একই গ্রামের ইয়াসিন আলি (৩২), দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রামের সোহেল ইসলাম (৩৪), একই গ্রামের ছেলে রমেশচন্দ্র বর্মণ (৩৫), বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মোজাম্মেল হক (৫৫) এবং পঞ্চগড় পৌরসভার ইসলামবাগ গ্রামের হোসেন আলী বাবু (৩৬)।
এ বিষয়ে ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মেহেদী পিয়াস জয় জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন খবরে সকাল থেকে অভিযান চালানো হয়। এসময় পঞ্চগড় শরের চৌরঙ্গী মোড়ে একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে গাড়িতে থাকা আনোয়ার হোসেন ডিপজল, ইয়াসিন আলি, সোহেল ইসলামে আটক করা করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে সাবেক মেম্বার মোজাম্মেল হক ও হোসেন আলী বাবু ও রমেশচন্দ্র বর্মণকে শহরের সিনেমাহল রোড এলাকায় থেকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা নকল ডলার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার হোসেন ডিপজল ও ইয়াসিন আলীর গ্রামের বাড়ি দেবীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য সেবনের আলামত জব্দ করা হয়। তবে নকল ডলারগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে তা জানা যায়নি।
মেজর মেহেদী বলেন, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ে নকল টাকা ও ডলারের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো। নকল নোটগুলো বাংলাদেশের পাশাপাশি পাশের দেশেও বিক্রি করতো।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে