সিলেট শহরে বেড়েই চলছে ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই। সপ্তাহের ব্যবধানে মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলাতে আলেম ও কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে ঘটেছে দুইটি ভয়াবহ ডাকাতি।
সিলেটের তালতলা এলাকা থেকে সৌদি প্রবাসীকে অপহরণ করার পর ঐ ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধার করলেও এখনো উদ্ধার হয়নি মোটরসাইকেল ও খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র। নগরীর বালুচর এলাকা থেকে এক ফ্রিল্যান্সারকে কুপিয়ে তার ১৮ লাখ টাকা ছিনেয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
চুরি, ছিনতাই, অপহরণ ও ডাকাতিকাণ্ডে আতঙ্কিত পুরো শহরের মানুষ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। এসব ঘটনার আসামী গ্রেপ্তার নেই বললেই চলে। ভয়াবহ এসব ডাকাতির ঘটনায় অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের পাশাপাশি ডাকাতরা বাড়ির লোকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনও চালিয়েছে।
চলতি মাসের ১১ তারিখ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোপশহর এলাকার খানবাড়িতে হানা দেয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাতদল। ওই সময় তারা লুটপাটের পাশাপাশি বাড়ির লোকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের আহত করে। আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনজন। ডাকাতদের আঘাতে একজনের দাঁত ভেঙ্গে গেছে।
অপর দিকে ১৪ তারিখে গভীর রাতে একই উপজেলার সিলাম এলাকায় টিকরপাড়ায় ঘরের গেইট ভেঙ্গে এক কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের এক ডাকাতদল তাণ্ডব চালায়। ঘরের মানুষদের বেঁধে অত্যাচার করে একটি টিভিএস মোটরসাইকেলসহ লুট করে নিয়ে যায় নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার।
এ মাসের ১০ তারিখে নগরীর তালতলা এলাকা থেকে এক সৌদি প্রবাসীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়ে অপহরণকারীরা। পরে নগরীর কোয়ারপার এলাকা থেকে ওই সৌদি প্রবাসীকে উদ্ধার করে পুলিশ, তবে এখনও উদ্ধার হয়নি তার খোয়া যাওয়া মোটরসাইকেল ও টাকা। অপর দিকে ১২ তারিখে নগরীর বালুচর এলাকায় এক ফ্রিল্যান্সারের ওপর হামলা চালিয়ে ১৮ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলি শেখ জানান, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শহরে দস্যুতা আটটি, ছিনতাই ৫৬টি ও ১৫১টি চুরির ঘটনা ঘটেছে পুরো সিলেট মহানগরে। হঠাৎ করে ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার বিশ্লেষণসহ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নগরবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
