হবিগঞ্জের ঢাকা-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের দুইটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় প্রায় ১২ ঘণ্টা সারাদেশের সাথে সিলেটের রেল চলাচল বন্ধ ছিলো।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লাইনচ্যুত হওয়া তেলবাহী ট্রেনটি অপসারণ করার পর এ লাইন সচল হয়। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেলবাহী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।
এর ফলে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী। দেখা দেয় শিডিউল বিপর্যয়।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন জানান, আখাউড়া থেকে একটি তেলবাহী ট্রেন সিলেটে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর রেলব্রিজের পাশে দুইটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ফলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল চলাচল বন্ধ হয়।
তিনি জানান, ট্রেনটি রাত ৮ টা ১০ মিনিটে লস্করপুর এলাকায় পৌঁছামাত্রই একটি বিকট শব্দ হয়। এসময় ট্রেন চালক হার্ডব্রেক করেন। সাথে সাথে ট্রেনের ৫ ও ১৪ নম্বর বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে রেললাইনের একটি ব্রিজও ভেঙ্গে পড়ে। এতে করে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

তিনি আরও জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস কুলাউড়া রেলস্টেশনে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে, সিলেটে থেকে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস মাইজগাঁও রেলস্টেশনে এবং চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে আটকা পড়ে। ট্রেনগুলো যথাসময়ে পৌঁছতে না পারায় পাহাড়ীকা, জয়ন্তীকা, উপবন, কালনী ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবুল খায়ের চৌধুরী জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন রওয়ানা হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে। তবে ব্রিজ ভাঙ্গা থাকায় উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধারকাজ শুরু করতে করতে রাত আড়াইটা বেজে যায় ।
তিনি জানান, তেলবাহী ট্রেনটিতে ১৪টি বগি ছিলো। এর মধ্যে পাঁচটি বগি শ্রীমঙ্গলে এবং ৯টি বগি শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে নেয়া হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০মিনিটে শ্রীমঙ্গলে আটকে পড়া চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও শায়েস্তাগঞ্জে আটকে পড়া সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস চালুর মধ্য দিয়ে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান তিনি।
টাঙ্গাইলে বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল চলাচল বন্ধ