সিলেট শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি। নিত্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার কালীঘাট ও সবজি বাজার সোবহানীঘাটে গাড়িতে পণ্য লোড-আনলোড করার সময় চাঁদা না দিলে নেমে আসে নির্যাতন।
এই অবস্থায় চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
সিলেট শহরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে ফুটপাথে বসা মদিনা মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করে একটি চক্র।
চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের উপর চালানো হয় নির্যাতন, কখনো কখনো মালামাল লুট করে নেয় চাঁদাবাজরা। শুধু মদিনা মার্কেট নয়, কালীঘাট, সোবহানীঘাটসহ শহরের সবগুলো বাজার-মার্কেটেই গত পাঁচ মাস ধরে চলছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম।
এ মার্কেটের দুই ব্যবসায়ী জানালেন, নানা অজুহাতে কর্তৃপক্ষের মদদে চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। চাঁদা না দিলে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা গাড়ি থেকে তাদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ এলাকার এক ট্রাক চালক জানালেন, মোটরসাইকেল নিয়ে এসে রাস্তায় গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করে একটি চক্র। চাঁদা না দিলে গাড়ি থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। মাঝেমাঝে দেখা যায়, গাড়িতে অর্ধেক মালামাল আছে আর অর্ধেকই লুট হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামা ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, দুই লাখ টাকার মাল আনার পর আপনারা এক লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে নিয়ে গেলেন, তাহলে তো আমার পুঁজিই আপনি নিয়ে গেলেন! এরকম চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ না হলে, সিলেট কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে।
অবশ্য পুলিশ বলছে, গোপন তদন্তের মাধ্যমে নগরীর চাঁদাবাজদের তালিকা করা হচ্ছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার জাকির হোসেন খান বলেন, পুলিশ অবশ্যই তাদের সাথে আছে, তাদের আইনি সেবা দিতে। তিনি এ কাজে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে, ব্যবসায়ী, শ্রমিক আর পরিবহন চালকরা বলছেন, দ্রুততার সাথে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য। সিলেটের অর্থনীতিতে পড়বে এর বিরূপ প্রভাব।
জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে লাখ টাকা জরিমানা