কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের দুই নেত্রী আদালতের নির্দেশে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন।
এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা মেনে একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আরও দুটি কমিটি করেছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে কতৃপক্ষ।
ছাত্রলীগ সভাপতিও জানিয়েছেন, দোষী যেই হোক তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখা।
গত রোববার রাতে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে চার ঘণ্টা গণরুমে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা ও তার কর্মীদের দায়িী করেছেন ওই শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার তিনি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেত্রর দাবি করেন, ফুলপরী নিজেকে তার ফুপাতো বোন বলে পরিচয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর সাথে দাপট দেখিয়ে আসছিলো। এ কারণে গেলো ১১ ফ্রেব্রুয়ারি হল কর্তৃপক্ষের কাছে সে মুচলেকাও দিয়েছিলো।
মুচলেকার বিষয়টি স্বীকার করে শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ ড.শাসমুল আলম জানান, ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ দু’টি কমিটি করেছে। আর আদালতের নির্দেশে আরেকটি কমিটি হয়েছে। সব মিলে তিনটি কমিটি কাজ করছে।

এদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগের জবাবে সংগঠনটির কেন্দ্রিয় সভাপতি বললেন, আবাসন সংকটে থেকেই আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা ঘটে। আর নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তবে অনৈতিক কর্মকান্ডের জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে দোষ প্রমানিত হলে ছাত্রলীগ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি।
আরও পড়ুন: রোজার আগেই হু হু করে বাড়ছে বিদেশি ফলের দাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ও সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা হলে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে শাখা ছাত্রলীগের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করছি। তদন্তে সংগঠনের কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করব।
একাত্তর/এসি
