২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬.২০ শতাংশ কম। পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। প্রায় দুই দশকের মধ্যেই এবার সবচেয়ে খারাপ হলো এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। ২০০৭ সালে গড় পাশের হার ছিলো ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর ২০২৫ সালে গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, যাঁরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি, সরকার তাদের পাশেও থাকবে। এবার কোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। যে প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে আছে, সেগুলোকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সরকার সেই চেষ্টা করবে।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর চিত্র
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর (২০২৫ সালে) এসএসসি ও সমমানে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিতেই পতন ঘটেছে।

বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিএ-৫
সাধারণ ৯টি বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম এবং বরিশাল বোর্ডে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা সবচেয়ে কম।
ঢাকা বোর্ড: পাসের হার ৭১.৬৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩,২৫৩ জন।
রাজশাহী বোর্ড: পাসের হার ৬৩.৬৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬,১১৩ জন।
যশোর বোর্ড: পাসের হার ৬৬.২৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১,৪৭৮ জন।
কুমিল্লা বোর্ড: পাসের হার ৬৫.৪২%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯,৮১৪ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ড: পাসের হার ৫৯.৪৮%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯,৩৯৮ জন।
দিনাজপুর বোর্ড: পাসের হার ৫৮.০৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩,৬৩৯ জন।
বরিশাল বোর্ড: পাসের হার ৬০.৩৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২,৭৭৮ জন।
সিলেট বোর্ড: পাসের হার ৫৮.৩৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,৮৩৬ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ড: পাসের হার ৫৭.৩৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫,৭০০ জন।
মাদ্রাসা বোর্ড: পাসের হার ৫৫.৪৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬,৭১৬ জন।
কারিগরি বোর্ড: পাসের হার ৫৮.২০%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,৯৫১ জন।
এগিয়ে ছাত্রীরা, বেড়েছে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখিয়েছে। জিপিএ-৫ ও পাসের দিক থেকে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে:
সাধারণ বোর্ডে উত্তীর্ণ মোট ছাত্রের চেয়ে ১,০৭,৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রদের চেয়ে ১১,৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, এ বছর মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩০৩টি বেড়ে ৩০,৪০২টি এবং কেন্দ্র ২০১টি বেড়ে ৩,৮৮৩টি হলেও শতভাগ অকৃতকার্য (০% পাস) প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে:
সাধারণ ৯টি বোর্ড: শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ৫৭টি (২০২৫ সালে ছিল ৪৮টি)।
মাদ্রাসা বোর্ড: শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ২২৬টি (২০২৫ সালে ছিল ৮৬টি)।

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ও ভর্তি প্রক্রিয়া
নম্বর প্রদানের কড়াকড়ি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মন খুলে গান গাওয়া যায়, কিন্তু মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না। নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। ফলাফল কিছুটা দেরি হলেও সামনে দ্রুত সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে এবং এরপরই একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
আন্তবোর্ড সমন্বয়ক জানিয়েছেন, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সবাই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন এবং ভর্তি প্রক্রিয়া শেষেও অনেক আসন ফাঁকা থাকবে।
যেভাবে ফল জানা যাবে
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
এসএমএসের মাধ্যমে:
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC <স্পেস> বোর্ডের প্রথম ৩ অক্ষর <স্পেস> রোল <স্পেস> ২০২৬ লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে (যেমন: SSC DHA 123456 2026)। মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য SSC MAD এবং কারিগরি বোর্ডের জন্য SSC TEC ব্যবহার করতে হবে। এতে চার্জ কাটবে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফল পাওয়া যাবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড:
কারিগরি পরীক্ষার্থীরা result.bteb.gov.bd থেকে এবং মাদ্রাসা পরীক্ষার্থীরা bmeb.gov.bd বা ebmeb.gov.bd থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও ব্যক্তিভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহ করতে পারবে।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ও পরীক্ষার বিলম্ব
গত ২১ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৪ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও প্রায় তিন সপ্তাহ বিলম্বে ফল প্রকাশ করা হলো।
ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
