পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এই হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তারা ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, বিকেলেশিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছেন।
আহতদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন এবং কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা ভিসির অপসারণ এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ সময় ভিসির সমর্থনে দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব রিপন শরিফের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা কর্মসূচিতে বাধা দেয় এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হট্টগোল শুরু হয়। পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলা ও প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করেছেন। তারা এই হামলার জন্য ভিসির মদদপুষ্টদের দায়ি করে বিচার দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভিসিদের সঙ্গে একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানে যোগ দিতে আজ সকাল আটটায় আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বহিরাগতদের হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
