সিনেমার মহাগুরু জ্যঁ-লুক গদারের অন্যতম পাঁচ সিনেমা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:১৪ এএম

সিনেমা ও জ্যঁ-লুক গদার এক সুতোয় গাঁথা দুটি নাম। জ্যঁ-লুক গদার এমন একটি নাম যিনি চলচ্চিত্রকে দিয়েছিলেন নতুন সংজ্ঞা। তিনি চলচ্চিত্রের গদবাধা সব নিয়মকে উপেক্ষা করে বানাতেন তার অসাধারন সব সিনেমা। তাকে নিয়ে ইংরেজ লেখক পিটার ব্রাডশ বলেছিলেন, 'গদার যেন ব্যাকরণ বইকে ছিড়ে কুটিকুটি করে ফেললেন, ব্যাকরণ না পড়েই।' ওয়াইল্ড ডিগ্রেশন, লং টেইক শট, অফবিট সংলাপ, অন লোকেশন শ্যুটিং, ডিপ ফোকাস ও জাম্প-কাট নিয়ে গদার সিনেমাকে দিলেন অন্যরকম রূপ।

১৯৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন জ্যঁ-লুক গদার। প্রথমে পড়া শুরু করেন গণিত নিয়ে। এরপর গনিত ছেড়ে এথনোলজি নিয়ে পড়া শুরু করেন। মূলত চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু সমলোচক হিসেবে। ৩০ বছর বয়সে বানালেন তার কালজয়ী সিনেমা ‘ব্রেথলেস’। যে সিনেমা ষাটের দশকের নিউ ওয়েভ ধারণাকে পরিপূর্ণ রূপ দিয়েছিলো। আজ চলচ্চিত্রের এই মহাগুরুর পাঁচটি সিনেমা সম্পর্কে জানবো।

ব্রেথলেস

একজন চোর প্রেমিক, যে তার চুরিকরা গাড়ির চাপা দিয়ে এক পুলিশকে হত্যা করে। তারপর সে পালিয়ে প্যারিসে তার প্রেমিকার কাছে যায়। তার প্রেমিকা ছিলেন সাংবাদিক। সে ইতালি পালিয়ে যাওয়ার জন্য টাকা জোগাড়ের সময়ে জানতে পারে, তার প্রেমিক খুব তাড়াতাড়ি পুলিশের হাতে পড়তে যাচ্ছে। এবার প্রেমিকার মনে দানাবাধে তাদের মধ্যকার বিশ্বস্ততা সবকিছু নিয়ে। এক করুণ বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে সিনেমার গল্প শেষ হয়। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েই গদারের জাম্প কাটের আইকনিক ব্যবহার প্রবর্তন হয়।

মাসকুলিন ফেমিনিন

এটি একটি ডকুমেন্টারি শৈলীতে চিত্রায়িত সিনেমা। এই চলচ্চিত্রে আমরা তৎকালীন সমসাময়িক যুব সংস্কৃতির দর্শন খুঁজে পাই। এই সিনেমায় দেখা যায় যুবক-যুবতীরা প্রেম, যৌনতা, কাজ এবং ভোগবাদের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

টু ওর থ্রি থিংস আই নো এবাউট হার

এই সিনেমায় আমরা চলচ্চিত্রের একটি বৈপ্লবিক ফরম্যাট দেখতে পাই। সিনেমাটি ডকুমেন্টারি ফর্মে আমাদের ভোগবাদী সমাজের পরিণতি এবং মহিলাদের প্রতি যৌন আচরণে রাজনীতির মতো বিষয়গুলোকে তুলে ধরে। এই সিনেমায় গদার সমসাময়িক সংস্কৃতির উপর তার চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতির কথা বলেছেন। এখানে অনেক দৃশ্য ইম্প্রোভাইজ করা হয়েছিল, অভিনেতাদের তাদের মনে যা ছিল তা নিয়ে নির্দ্বিধায় বলতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। যার ফলে সততা ও প্রতিফলনের অনুভূতি তৈরি হয়েছিলো।

লে পেটিট সোল্ডাত

লে পেটিট সোল্ডাতে গদার আলজেরিয়ান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন, যা তৈরির পর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই সিনেমায় তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে নাগরিকদের উপর নির্যাতনের সত্য দৃশ্যগুলো চিত্রিত করেছিলেন যার ফলে এটি ফ্রান্সে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এই সিনেমায় আনা কারিনা ও মিশেল সুবরে অভিনয় করেছেন। লে পেটিট সোল্ডাতে দেখা যায়, একজন যুবক যে যুদ্ধে তালিকাভুক্তি এড়াতে চেষ্টা করে। যুদ্ধে সে যুবককে মানুষ হত্যা করতে বাধ্য করা হয় এবং যখন সে অবাধ্য হওয়ার চেষ্টা করে তখন তাকে করা হয় নির্যাতন।

আলফাভিল

এই সিনেমাটি একসাথে সায়েন্স ফিকশন, ফিল্ম নোয়ার ও ডিস্টোপিয়ান জনরার চলচ্চিত্র বলা হয়। আলফাভিল দিয়ে আমরা গদারের দার্শনিক চিন্তার প্রকাশ দেখতে পাই। চলচ্চিত্রটি  আমাদের এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে মুক্তচিন্তা, প্রেম ও কবিতাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

একাত্তর/পিএজে
ডিজিটাল ক্যামেরার একটা মাত্র ক্লিকেই এখন বন্দি হয়ে যায় হাজারো দৃশ্য। মেমোরি কার্ডের ছোট্ট একটা চিপে জমা থাকে আস্ত সিনেমা। কিন্তু এইতো সেদিনও এমন ছিেলা না। সিনেমার সেট মানেই ছিেরা যেন এক...
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর প্রথম সাত দিনের সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ‘ঈদ সিনেমার সাত দিন: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক...
দক্ষিণী সিনেমার ‘থালাপতি’ বিজয় এখন তামিলনাড়ুর দাপুটে মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই দিনরাত কাটছে তাঁর রাজনীতির ময়দানে, একের পর এক হাই-প্রোফাইল বৈঠক আর গুরুদায়িত্ব সামলাতে। ওদিকে গ্ল্যামার দুনিয়ার টপ...
চলচ্চিত্র দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল এক জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এবারের উৎসবে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সংঘাত নিয়ে নির্মিত নরওয়েজিয়ান...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর