ইউরোপ আমেরিকার মিডিয়াই বলেছিলো বাংলাদেশের অর্থনীতি ‘মিরাকল ইকোনমি’। শ্রীলঙ্কা জুজুতে এখন তারাই আবার এদেশে ক্রাইসিস খুঁজছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. সাদিক আহমেদ বলছেন, অর্থনীতি বড়ো চাপে আছে। তবে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি সঙ্কটে পড়েছে’ খোদ ওয়াশিংটন পোস্টের এমন শিরোনামকেও তিনি বলছেন অতিনাটকীয়।
ড. সাদিকের মতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ এখন বাংলাদেশের বড়ো ঝুঁকি। এটি ম্যানেজ করতে হবে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে পণ্যের দাম জোর করে বেঁধে দেয়া, কারখানা ও বাজারে অভিযান চালানো এবং রিজার্ভ ধরে রাখার নামে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করলে তা বুমেরাং হবে বলেও সতর্ক করছেন তিনি।
তার মতে বিশ্ব সঙ্কট, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণেই সারাবিশ্ব মূল্যস্ফীতিতে ভুগছে। এই যুদ্ধ থামিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিকে স্বাভাবিক পথে আনতেই হবে। এখানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের বড়ো দায়িত্ব আছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভারত্ব এখন অনেকে বেশি। সেটি এজন্য নয় যে, দেশটি বড়ো পারমানবিক শক্তি কিংবা বিশ্ব রাজনীতির বড়ো শক্তি, বরং দেশটি রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ সব মিলে বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে বড়ো যোগানদাতা।
একাত্তরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও বিশ্ব অর্থনীতি, বিশ্ব রাজনীতির আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
জুলিয়া: ওয়াশিংটন টাইমস সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে শিরোনাম করেছে, ‘মিরাকল ইকোনোমি ইন ক্রাইসিস’। আসলেই কতোটা ক্রাইসিসে আছে বাংলাদেশ?
ড. সাদিক: সবার মাথায় এখনো শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান। তারা তো সবসময়ই ক্রাইসিসে ছিল, নতুন নয়। সবাই জানে বাংলাদেশে নরমালি একটা স্ট্যাবল ইকোনোমি। এ দেশের গ্রোথ রেট ভালো, মাইক্রো পারফরমিং ভালো ছিলো, ডেবট টু জিডিপি রেশিও আমাদের খুব কম, ফরেন বরোয়িং খুব কম। সবদিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যাবল।
তিনি বলেন, এবার একটু ইনস্ট্যাবিলিটি দেখা গেছে। কিন্তু এটাকে ক্রাইসিস বলাটা ঠিক হবে না, এটাকে ম্যানেজ করতে হবে। সেজন্যই ওয়াশিংটন টাইমসের হেডলাইনটা ওভার ড্রামাটাইজড। নিউজ পেপার এটি করে। কিন্ত ইস্যুজ আছে এটাকে একদম উড়িয়ে দেয়া যাবে না। বড়ো ইস্যু যেটা দাঁড়িয়েছে সেটা হলো মিডিয়াম ও লংটার্ম ডেবট সার্ভিসিং এ আমাদের কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আর ৫-৬টা বড়ো সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট যেটা চায়না থেকে নেয়া হয়েছে, রূপপুর এর জন্য নেয়া হয়েছে- সবগুলো আমি হিসেবে করে দেখেছি এগুলোতে ইনস্ট্যাবিলটি হয় না লংটার্মে বা মিডিয়াম টার্মে। শর্ট টার্মে যেটা হয়েছে শর্ট টার্ম বোরোয়িং বেড়ে গেছে। টোটাল শর্ট টার্ম ক্রেডিট এখন প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও এতোটা হয় নাই। রিজার্ভ ফল করেছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। শর্ট টার্ম ডেবট হচ্ছে উইদ ইন ওয়ান ইয়ারে ঋণদাতারা চেয়ে বসতে পারে। তাই এটাকে রোলওভার করতে হবে। ওখানে ইন্টারন্যাশনালি ইন্টারেস্ট রেট বেড়ে গেছে। ফেডারেল রিজার্ভ এর রেট বেড়েছে। কস্টও বেড়ে যেতে পারে। তাই শর্ট টার্ম ডেবট একটু ভালোভাবে ম্যানেজ করতে হবে। রিজার্ভ আমাদের আর লস করতে দেয়া যাবে না। আবার রিজার্ভ দিয়ে ফরেন এক্সচেন্জকে ডিফেন্ড করা-এটাও ঠিক হবে না। ফরেন এক্সচেন্জ ইস্যু যেটা দাঁড়িয়েছে যে ৩-৪ টা রেট করে দিয়েছে। এটা না করে একটা রেট করলে ভালো হয়। আর এক্সপোর্টারদের ঠকানোর কোনো লজিক দেখি না। তাদের ৯৯ টাকা কেনো দেবে । ফরেন এক্সচেন্জ মার্কেটে যদি ১১০-১১১ টাকা রেটে লোকে কিনতে রাজি থাকে তাহলে এক্সপোর্টারদের সেটা দিক তাহলে এক্সপোর্ট ইনসেনটিভ বাড়বে। ডিমান্ডের সাথে সাপ্লাই বাড়লেই ফরেন এক্সচেন্জ মা্র্কেট স্ট্যাবল হয়ে যাবে। সেখানে ম্যানেজমেন্টের ইস্যু রয়েছে।
আইএমএফ এর সাথে ডায়লগ এটা কোন ক্রাইসিস নয়। ডায়লগের একটা অ্যাডভান্টেজ আমি দেখি মার্কেটে যেহেতু আমাদের ফরেন এক্সচেন্জ আনতে হয় বাইরে থেকে, আমাদের সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নিতে হলে রেটিংস অনেক সময় দেখা হয় তাই আইএমএফ এর সাথে ডায়ালগে থাকলে সবাই ভাববে যে একটা মোটামুটি প্রোসেস চলমান আছে। প্রোসেস হিসেবে আই থিংক এটা একটা ওয়াইজ মুভ সরকারের দিক থেকে।তবে ফরেন এক্সচেন্জ কতটা লোন পাবে না পাবে সেটা এতোটা ইমপোর্টেন্ট নয় কেননা আমরা দেখেছি ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি হাফ ইয়ারেই চলে গেছে রিজার্ভ থেকে। আইএমএফ ৪ বিলিয়ন ডলার দিলেতো সেটাও চলে যেতে পারে যদি আন্ডারলাইন কারেন্টসগুলো ঠিক না করা হয়। সেজন্য আমরা আশা করছি যে এই ডায়ালগের মাধ্যমে আমরা মোটামুটিভাবে একটা স্ট্যাবিলিটির দিকে চলে যাবো আর মার্কেট ইনস্ট্রমেন্টে না করে নন-মার্কেট অ্যাকশনে কন্ট্রোল করে, ইম্পোর্ট কন্ট্রোল করে বা কিছু ব্যান আরোপ করে দিয়ে কাজ হবে না। আমরা ৭৫ এর পরেও দেখেছি এগুলো-কাজ করে না। সেজন্যই আমরা মার্কেট-বেজড ইনস্ট্রমেন্ট ইউজ করে আমাদের ইকোনমি স্ট্যাবল করতে পারি এটাই চ্যালেন্জ। আমি ক্রাইসিস বলবো না তবে এটি ম্যানেজ করতে হবে তা না হলে ইট কুড গো ইনটু কেভ-খাদে পড়তে পারেন। এখন যদি ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণদাতারা চেয়ে বসে বা ২০ বিলিয়ন ডলারই চেয়ে বসে? এটাতো শর্ট টার্ম ডেবট আমি শিওর এটা রোলওভার করা যাবে তবে এটার জন্য কারেক্টিভ পলিসি নিতে হবে। আরেকটা ব্যপার আমাদের বুঝতে হবে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ টাকা কতো দিল সেটি বড় ব্যাপার না। টাকা পয়সা ইউজের ক্ষেত্রে তাদের নলেজটা নিয়ে এসে আমাদের পলিসি যদি ঠিক করতে পারি আমি মনে করি দ্যাট ইজ মোস্ট ইমপোর্টেন্ট। ১-২বিলিয়ন ডলার রাতারাতি গায়েব হয়ে যেতে পারে। আমাদের ন্যাশনাল পলিসি ঠিক করে স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে ফরেন কারেন্সি, এক্সপোর্ট সেক্টর ম্যানেজ করা, গ্লোবাল ইনফ্লেশন কিভাবে ম্যানেজ করবো এজন্য প্লানিং দরকার আর প্লানিং এ ডোনার্সদের দরকার।
জুলিয়া: কয়েক মাসে রিজার্ভ অনেক কমে গেছে, টাকার মানে রেকর্ড পতন হয়েছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর দারস্থও হয়েছে সরকার। এমন পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ড. সাদিক: লং টার্ম যদি চিন্তা করি তাহলে আমি বলবো যে বাংলাদেশ ভাল আছে; এটা নিয়ে ডিবেট নাই। আমাদের যে প্রোগ্রেস হয়েছে ফান্ডেমেন্টালস গুলো যদি দেখি আমাদের এক্সপোর্ট পারফরমেন্স, জিডিপি গ্রোথ, ইনভেস্টমেন্ট সব দিক দিয়েই পজিটিভ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো বলবো এজন্যে যে আমাদেরতো একটা হিস্টোরিক্যাল ট্র্যাক রেকর্ড আছে। ১৯৯০ এর পর থেকে ভালো উন্নতি হয়েছে এবং সেটি ২০১৯ অর্থাৎ কভিড আসার আগে পর্যন্ত ভালোভাবেই চলেছে। আমি মনে করি ম্যাক্রোকোনোমির ফান্ডামেন্টালসগুলো স্ট্রং এন্ড স্ট্যাবল ছিলো আমাদের। এক্সপোর্ট লেড গ্রোথ হয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট, পাবলিক সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট- সবদিক দিয়ে যদি চিন্তা করি জিডিপি গ্রোথ রেট ভালো। স্যোশাল স্ট্যাবিলিটিও দেখেছি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট দেখেছি, পোভার্টি রিডাকশন দেখেছি। সব কিছু ভালোই চলছিলো। তারপরতো কভিড আসার পর এক বড় ধাক্কা। তবে ইকোনোমির রেজিলিয়েন্সে প্রমান হয়েছে যে ধাক্কাটাকে আমরা ভালোভাবে সামাল দিয়েছি। এটি অর্থনীতির একটি শক্তি বটে। আমাদের শক অ্যাবজর্ভ করার একটা আলাদা ক্যাপাসিটি আছে। এখন আসি সবশেষ পরিস্থিতিতে- ২০২২ সালে যেটা শুরু হয়েছে ইউক্রেন ওয়ার এবং গ্লোবাল ইনফ্লেশন। এজন্য বেসিকেলি কেউ ই প্রস্তুত ছিলোনা, ফলে শকটা একটু বেশি হয়ে গেছে। গ্লোবাল ইনফ্লেশন বেশি হওয়ার ফলে আমাদের ইমপোর্ট হঠাৎ হিউজ বেড়ে কারেন্ট আকাউন্ট ডেফিসিট ১৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই হয়নি। সেটি সামাল দিতে গিয়েই দ্রুত শর্ট টার্ম বরোয়িং করতে হয়েছে ৫-৬ বিলিয়ন ডলার যেটা বাংলাদেশ সাধারণত করে না। আর রিজার্ভ লস হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এতে এক্সচেন্জ রেটে প্রেসার পড়বেই অবভিয়াসলি কারন মার্কেট সিগনাল পেয়েছে। এই প্রেসারটা পড়ার আগে থেকেই একটু ওভার এপ্রিসিয়েটেড ছিল বাংলাদেশের কারেন্সি। একচেন্জ রেট রিয়েল টার্মে যদি দেখি, যেটাকে বলে রিয়েল এফেকটিভ এক্সচেন্জ রেট ২০০৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রায় ৭২ পার্সেন্ট বেড়ে গিয়েছিল। ইন্ডিয়ান রুপি রেগুলার ডেপ্রিসিয়েট করেছে বাট বাংলাদেশের টাকা করেনি। তাই প্রেসারটা শেষে পড়েছে বেশি । এখন এটাকে স্ট্যাবিলাইজ করার জন্য সরকারকে চেষ্টা করতে হবে এবং এজন্য গ্লোবালি যেটা সবাই করছে ডিমান্ড ম্যানেজ করতে হবে সর্ট টার্মে। লং টার্মের জন্য বলছি না কারণ তখন এতে আনএমপ্লয়মেন্ট হবে, গ্রোথ কমে যাবে। গ্রোথ অবশ্য এখন এমনিতেই কমবে। কন্ট্রোল না করলেও কমবে। এখন ইস্যু হচ্ছে যে কিভাবে এই প্রেসারটাকে গর্ভমেন্ট এডজাস্ট করতে পারে। এটা চিন্তা করার বিষয় এখনো ইনফ্লেশনারি এক্সপেকটেশন কমে নাই কিন্ত গ্লোবাল ইনফ্লেশন বাড়ছেই। ইউক্রেন ওয়ারও চলছে। আমি মনে করি চলমান পরিস্থিতি যদি আমরা ভালভাবে পার পেতে পারি তাহলে আমরা আবার লং টার্মে ভালোর দিকে ফিরে যেতে পারবো।

জুলিয়া: বাজেট ঘাটতি মেটাতে জাইকা থেকেও লোন নেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপে কি আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বা নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে?
ড. সাদিক: চিন্তার বিষয় একদম যে নাই তাতো না। তবে দেখতে হবে কোন কনটেক্সটে তা এসছে। গ্লোবাল একটা ইনস্ট্যাবিলিটি আছে, ইনফ্লেশন আছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন ওয়ার বড় একটা আনসারটেনিটি। ইউরোপে এনার্জি শর্টেজ হয়ে গেছে প্রাইজ বেড়ে গেছে। সব জায়গায় তারা ইকোনোমি স্লো ডাউন করার চেষ্টা করছে। ডিমান্ড ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। সেটার একটা ইফেক্টতো আছেই। তবে বাংলাদেশে ফিসক্যাল ডেফিসিট, রেভিনিউ এবং ফরেন এক্সচেন্জ ঘাটতি আছে- এজন্য ডায়লগ হতে পারে আইএমএফ এর সাথে। আমাদের রিসোর্সও মোবিলাইজ করতে হবে। ট্যাক্স টু জিডিপি রেশিও এখন সাড়ে ৭ বা ৮ পার্সেন্ট। এটা দিয়ে একটা মডার্ন কান্ট্রি চালানো যায় না। আমরা বলছি আমরা আপার মিডল ইনকাম কান্ট্রি হবো সেজন্য আমাদের পোভাটি কমাতে খরচ করতে হবে, এডুকেশনে খরচ করতে হবে, স্যোশাল প্রোটেকশনে খরচ করতে হবে। আমার আশা এখন সিচুয়েশন দেখে সরকার ট্যাক্স রিফর্ম করবে ট্রেড রিফর্ম , এক্সপোর্ট বাড়িয়ে ইমপোর্ট স্ট্যাবল করে ইনভেস্টমেন্ট বাড়াবে। এরা যদি কোনো পলিসি না নেয় তাহলেতো এক পয়সাও আসবে না বা আসলেও কিছু হবে না। সেদিক দিয়ে আমি মনে করি যে দিজ ইজ এ চ্যালেন্জ ফর পলিসি ম্যানেজমেন্ট। আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি যে ভ্যালুটা দেয় তা পয়সা না। পয়সা টা হচ্ছে শর্ট টার্ম। আর আমাদের ক্রাইসিস এমন না যে শ্রীলংকার মতো পয়সা না এলে আমাদের ইকোনোমি বন্ধ হয়ে যাবে।
আমি যে টা ভ্যালু মনে করি আমি ২০-৩০ বছর তাদের সাথে চাকরি করেছি তাই বলছি এই কনটেক্সটে ডায়লগে ইন্টারন্যাশনালি এক্সপেরিয়েন্স নিতে পারি আমরা ল্যাটিন আমেরিকাতে কি হয়েছিল, আফ্রিকাতে কি হয়েছিল, ইস্ট এশিয়াতে কি হয়েছিল এইএক্সপেরিয়েন্স গুলো নিয়ে এসে যদি শেয়ার করা হয় তবে পরিস্থিতি বুঝতে সুবিধা হবে।
কিছু কিছু রিফর্ম যেগুলো এখন জরুরি মনে করি তা হলো এক্সচেন্জ রেট ম্যানেজমেন্ট, ৪-৫ রেট না একটা রেট করতে হবে। এই ১৫-২০ পার্সেন্ট ম্যাসিভ ডেপ্রিয়েশনও হতোনা যদি গ্র্যাজুয়ালি এটাকে ম্যানেজ করা হতো। অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি মনে করি, ইন্টারেস্ট রেটকে ৬-৯ এ আটকে দেয়া ঠিক হয় নাই। কারা ৯ পারসেন্টের বেনিফিট পাচ্ছে? ভেরি রিচ ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট! মাইক্রোক্রেডিটতো ২১-২২-২৩ পার্সেন্ট এখনো। এটাতো ঠিক না। ইন্টারেস্ট রেট কিছু ফ্লেক্সিবল করতে হবে আর উইক প্রজেক্টগুলো যেন না নেয়া হয় আর।
জুলিয়া: মূল্যস্ফীতি এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ। এদিকে আবার অতিমুনাফা ঠেকিয়ে পণ্যমূল্য কমানোর চেষ্টা করছে সরকারি অনেক সংস্থা। এদের কার্যক্রম কি নিয়ন্ত্রনমূলক বাজার ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে? এসব নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ কি?
ড. সাদিক: গ্লোবাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে বাংলাদেশের এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি দেখেছি প্রাইস কন্ট্রোল কোনো দিন কাজ করে না। বেসিক্যালি প্রাইসতো নির্ভর সাপ্লাই এবং ডিমান্ডের উপর। যদি প্রাইস বেশি হয় তাহলে ডিমান্ড কমাতে হবে। প্রাইস যদি কম থাকে উৎপাদকদের ইনসেনটিভ দিতে হবে। এইতো বাজার অর্থনীতির নিয়ম। এখানে প্রাইস কন্ট্রোল করে লাভ হবে না কারন ব্ল্যাক মার্কেট এসে যাবে, রেশনিং শুরু হয়ে যাবে এবং যারা পাচ্ছে না তাদের বাইরে গিয়ে বেশি দামে কিনতে হবে। তাই প্রাইস কন্ট্রোল কাজ করবে না। সরকারের উচিত হবে ইনফ্লেশন কমাতে হলে তারা দেখুক না গ্লোবালি কি পলিসি নিচ্ছে সবাই। ওরাতো আর বোকা না। ইউএসএ, জাপান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, তারাতো অ্যাডভান্সড কান্ট্রি, তাদেরতো অনেক নলেজ রয়েছে। এমন কন্ট্রোল করে চালানোর নজির কোথাও নাই। এটা সফল হবে না। শর্ট টার্মে হতে পারে দু’একদিন এদিক-ওদিক পুলিশ ধরাধরি করলো তখন হবে কি সাপ্লাইচেইন বন্ধ হয়ে যাবে। এগুলো পাবলিককে দেখানোর জন্য হয় বাট পাবলিক ইজ ভেরি ক্লেভার ইন বাংলাদেশ, তারা খবর রাখে, সব বোঝে। সাপ্লাই বাড়াবার যে সকল পদ্ধতি আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। এখানে সাপ্লাই কনস্ট্রেইন্টস আছে টেকনোলজি হোক, মার্কেটিং হোক, ইমপোর্টস হোক, এখন যদি ইমপোর্ট কন্ট্রোল করে দেই প্রোডাকশনে প্রভাব পরবে এটাতো সেলফ ডিফিটিং পলিসি। এখন আমাদের প্রোডাকশন বাড়ানোর পলিসি করতে হবে আর ডিমান্ড কমানোর জন্য শর্ট টার্মে এটলিস্ট ইন্টারেস্ট রেট বাড়াতেই হবে। তারপর স্ট্যাবিলাইজ করা যাবে গ্রোথের জন্য। ইনফ্লেশন কন্ট্রোলের আর কোন পদ্ধতি আছে বলে আমার জানা নাই।

জুলিয়া: বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ রুবিনি সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০০৮ সালের চেয়ে বড় মন্দা দেখতে পাচ্ছেন। আপনি কি দেখছেন? ২০২৩ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা কেমন দেখছেন আপনি?
ড. সাদিক: এটা নিয়ে এখনও ডিবেট চলছে স্যামুয়েলসনও বলেছে যে মন্দা হবে। ইউরোপে মন্দা শুরুই হয়ে গেছে। তবে এটা ডিবেটেবল যে মন্দা কোথায় যাবে। কিছুতো স্লো ডাউন হবেই। ইনফ্লেশন কন্ট্রোলের জন্য তারা যেসব মনিটারি পলিসি নিয়েছে বেশ এগ্রেসিভ। ইউএসএ নিয়েছে ইউরোপও নিয়েছে। কভিডে সাপ্লাইচেইনে যে ডিসরাপশন হয়েছিল তা পুরোপুরি রিস্টোর হয় নাই। হাউজিং সহ নানা খাতে ইনভেস্টমেন্ট কমে গেছে। সে ইফেক্টে এই স্লো ডাউন। তবে পুরাপুরি কতোটুকু স্লোডাউন হবে এটা এখনো ডিবেটেবল। ইউএস ইকোনোমিটা আমি ভালো জানি ইউএস ইকোনোমি ইজ ভেরি স্ট্রং তবে এখানে মোস্ট ইমপোর্টেন্স ফ্যাক্টর হচ্ছে ইউক্রেনের যুদ্ধটা। ইট ইজ ভেরি আনসারটেইন। এটা যদি কুইক রিজোলেশন হয়ে যায় আই থিংক রিসিশন উইল নট কাম ব্যাক আর যদি না হয় তাহলে কিন্ত সমস্যা আছে। তবে ২০০৮ সালে যে রিসিশন হয়েছিল বেসিকেলি সেটা ফেইলর অফ দ্যা ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম মোটামুটি কলাপস করেছিল, ডেরিভেটিভস মার্কেট এন্ড অল দ্যাট। এটার সাথে আমি এখনকারটা তুলনা করবো না।
আমি মনে করি ২০২৩ সাল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটু চ্যালেন্জিং। গ্রোথ কিছুটা কমবে। এজন্য সরকারের ফিসক্যাল ও মনিটারি পলিসি ভালোভাবে ব্যবহার করা দরকার। স্যোশাল প্রোটেকশনে কিছু খরচ বাড়াতে হবে। ফিসক্যাল রিফর্মগুলো যদি করা যায় তাহলে ১-২ বছর পর আবার ভালো হবে তবে ২০২৩ উইল বি অ্যা রিয়েলি টাফ ইয়ার। আমাদের এক্সপোর্ট কিছুটা প্রেসার পড়েছে এখন যেহেতু ইউরোপিয় ইউনিয়নে ডিমান্ড ফর গারমেন্ট কমেছে কারণ তাদের ইকোনমি স্লো ডাউন করছে। এ কারনে আমাদের এখানে এক্সপোর্টে কিছুটা স্লো ডাউন হবে। তবে আমি মনে করি না যে মেজর স্লাইড হবে। আমাদের গ্রোথ যদি সাড়ে ৬-৭ পার্সেন্ট হয়ে থাকে তা কমে ৪-৫ এ নামলে আমাদের তা বহন করা এবং ফিরিয়ে আনার ক্যাপাসিটি আছে বলে আমি মনে করি।
জুলিয়া: ওয়াশিংটন- ঢাকা সম্পর্কে কী নতুন কোন মোড় নিচ্ছে?
ড. সাদিক: ওয়াশিংটনে যেটা হয়েছে ২০২১ সালে সরকার চেন্জ মানে রিজিম চেন্জ। যদিও ট্রাম্প ওয়াজ অ্যা ভেরি ডিফারেন্ট কারেক্টার। তবু ট্রাম্প বলে না রিপাবলিকান আর ডেমোক্রেটদের মধ্যে স্যোশাল ও পলিটিক্যাল ইকোনমি পলিসি বেশ কিছু ডিফারেন্স আছে। ডেমোক্রেটদের মেজর স্যোশাল ইস্যুর একটা হচ্ছে হিউম্যান রাইটস। ইকুয়ালিটি ইস্যু, জেন্ডার ইস্যু নিয়ে, স্যোশাল ইনক্লসিভনেস এবং পলিটিক্যাল পারটিসিপেশনের কিছু ইস্যু রয়েছে। ডেমোক্রেটরা অনেক বেশি খবর নেয় যে কোথাও হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন হচ্ছে কিনা কিংবা পারটিসিপেটরি ডেমোক্রেসি আছে কিনা। জেন্ডার ট্রিটমেন্ট কেমন, জার্নালিস্ট দের কিভাবে ট্রিট করা হচ্ছে এসব ইস্যু। যখন তারা মনে করে এগুলো আনবিয়ারেবল তখন তারা প্রভাব রাখার চেষ্টা করে।
আরেকটি কথা একটা জিনিষ আমাদের মনে রাখতে হবে আজকে ইউএসএ ইজ দ্যা লারজেস্ট সোর্স অফ ফরেন এক্সচেন্জ টু বাংলাদেশ। সেখানে গারমেন্ট এক্সপোর্ট ৬.৩ বিলিয়ন, রেমিটেন্স ৩.৪ বিলিয়ন, ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ১ বিলিয়ন- বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি-এতোটা কেউ দেয় না আমাদের, ইন্ডিয়াও না। তাই ইউএসএ মেজর ইকোনোমিক পার্টনার আমাদের। ফরগেট অ্যাবাউট নিউক্লিয়ার অর গ্লোবাল লিডার এন্ড অল সাচ আদার স্ট্যাফস। এজন্যই ইউএসএ’র সাথে ভালো রিলেশন রাখা আমাদের ওউন ইন্টারেস্ট আমি মনে করি। তবে স্যোশাল চেন্জ যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন আমরা ডেমোক্রেসি আরো স্ট্রং করবো, এনটি-করাপশনে জোর দিবো। আমিও মনে করি করাপশন এন্ড হিউম্যান রাইটস বড় ইস্যু ইউএসএতে। ওদের এনটি-করাপশন পলিসি ইজ ভেরি স্ট্রং। দেয়ার ইজ অ্যা কনভারজেস অফ ইন্টারেস্টস তবে আমাদের যারা ল’ ইমপ্লিমেন্ট করেন, সিকিউরিটি ফোর্সেজ স্পেশালি পুলিশ দে নিড টু বি মোর কেয়ারফুল। তবে আমাদের ন্যাশনাল পলিসি ই ডোন্ট থিংক ইজ ইন কনফ্লিকট ইউদ ইউএসএ। আমি মনে করি না যে বিরাট কিছু একটা পরিবর্তন আসবে। তবে তারা এখন সচেতন বেশি, তারা এখন খুব খবর নিবে ইলেকশনটা ঠিকমতো হলো কি হলো না। কে কাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে উইদাউট ট্রায়াল মেরে ফেলছে- লেবার ওয়েজেস ঠিকমতো দিচ্ছে কিনা এসব নিয়ে এরা একটু পেরেশানি করবে হয়তো। আমাদের পলিটিক্স এন্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে যারা আছেন দে হ্যাভ টু বি বিট কেয়ারফুল নাউ।
জুলিয়া: বাইডেন সরকার এখন বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কি নীতি অনুসরন করছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের কী সম্ভাবনা আছে?
ড. সাদিক: বাইডেন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলবো না ডেমোক্রেটরাই ট্রেডিশনালি একটু মোর প্রোটেকশনিস্ট। তবে সেটি আমাদের এফেক্ট করবে না ততো। বেসিক্যালি তা এখন চায়নার সাথে। এখন ওদের ট্রেড পলিসির মেইন ফোকাসই হচ্ছে রেস্ট্রিকশন টু চায়না এবং আরো কাউন্টার কিছু বিষয় আছে। আজ পর্যন্ত অনেক ডেমোক্রেট গর্ভমেন্ট এসেছে বাংলাদেশের উপর কখনো রেস্ট্রিকশন এফেক্ট পড়ে নাই। আমি বলবো তারা বরং বাংলাদেশের প্রতি বেশি সিমপ্যাথিক । বাংলাদেশের কিছু পজিটিভ ইমেজও রয়েছে- জেন্ডারে উন্নতি, স্কুলিং, এডুকেশনে। আমেরিকানদের কাছে বাংলাদেশের স্যোশাল এন্ড ইকোনোমিক ওভারঅল ইমেজ ভেরি পজিটিভ। আমেরিকান মার্কেট ইজ লাইক ওশান ,ট্রেড প্রোটেকশন কম, ট্যারিফ ৩-৪ পারসেন্ট, যদিও গারমেন্টে একটু বেশি তবুও আমরা ভালো করছি। আমরা ওখানে লেদার, সিনথেটিক মেটেরিয়ালস, সুজ পাঠাতে পারি। ওদের ফ্যাশন মার্কেট অনেক বড়। উইম্যান আর দ্যা মেইন কনজ্যুমার্স দেয়ার- আমরা যদি প্রোডাক্ট ডাইভারসিফেকেশনে যেতে পারি আই থিংক দ্যাট উইল বি বিগ থিং।
জুলিয়া: গত দুই-তিন দশকে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীন বড়ো সহযোগী হয়ে উঠছে। শিল্প ও অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পেতে বাংলাদেশেকে কী করতে হবে?
ড. সাদিক: আমেরিকান ফরেন ইনভেস্টমেন্ট এদেশে এসেছে প্রায় সবই এনার্জিতে। ইনফ্রাসটাকচারে তারা আসবে না কারণ ওরা কমপিটিটিভও হবেনা। চায়না ইজ লো কস্ট। জাপান, কোরিয়া আরো ব্যবহার করতে পারি আমরা। ইনফ্রাস্টাকচারের জন্য আমেরিকার কাছে যাওয়ার দরকার নেই। আরেকটি কথা দেখুন চায়নার একটা ডিফারেন্স আছে চায়নার সব পলিসি গর্ভমেন্ট করে প্রাইভেট সেক্টর ওভাবে ডাইরেক্টলি ইনভলভ না। তাই চায়নার সাথে ইকুয়াল করাটা ঠিক হবে না। আমি মনে করি যে ইউএসএ’র অ্যাডভান্সমেন্টস হচ্ছে টেকনোলজি। সেখানে আমরা অনেক ইমপ্রুভ করতে পারি। ভিয়েতনাম সহ সবাই বেনিফিটেড হয়েছে শুধু আমরাই এখনো পিছিয়ে আছি। ইউএস এর সাথে আমাদের টেকনোলজি পার্টনারশীপ যদি আরেকটু ইমপ্রুভ করি আমরা তাহলে অনেক ভালো হবে। আর যদি পাওয়ার সেক্টরে, ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে, আরো ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই আনতে চাই আমরা তবে শুধু আমেরিকা না অন্য সবার জন্যও কস্ট অফ ডুয়িং বিজনেসে রিফর্ম করতে হবে।
জুলিয়া: ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নীতি প্রণেতা ও শীর্ষ নির্বাহীরা এখন বাংলাদেশকে কিভাবে দেখছেন, বাংলাদেশ নিয়ে কী ভাবছেন?
ড. সাদিক: সেখানে বেসিক স্ট্রাকচার এবং কর্পোরেট পলিসিতে খুব একটা চেন্জ হয় নাই। পোভারটি ফোকাস আছে। একটা ইস্যুতে পরিবর্তন হয়েছে তা যেটা হচ্ছে ক্লাইমেট চেন্জ নিয়ে। ক্লাইমেট চেন্জে এখন অনেক অ্যাওয়ারনেস হয়েছে। সেখানেও তারা ভেরি সাপোর্টিভ টু বাংলাদেশ। এক মিশাড় যেটা হয়েছিল আমাদের পদ্মা ব্রিজ নিয়ে দ্যাট ওয়াজ এ মেজর ডিজসটার অফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট। তারা অন্যায় একটা ডিসিশন নিয়েছিলো। দে আর অ্যামব্যারাসড বাই দ্যাট এন্ড এটা কারেকশন করার জন্য তারা বেশ সিমপেথিটিক। বাংলাদেশের সাথে ডায়লোগ করছে তারা এখন। বাজেট সাপোর্ট দিবে। ওদের প্রোগ্রামও বড় করতে চাচ্ছে তারা।
জুলিয়া: ইউক্রেনে আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণ হচ্ছে। এনিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ কী? এর ভবিষ্যৎ প্রভাব কী দেখতে পাচ্ছেন?
ড. সাদিক: গ্লোবালি আমি মনে করি একটা আনসারটেইন ওয়ার্ল্ডে পৌঁছে গেছি আমরা। পুতিনের ইনটেনশন বুঝা খুবই ডিফিকাল্ট। যুদ্ধে বেশ কিছু ধাক্কা খেয়েছে। এখন এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি যে রাশাকে একদম করনার্ড করা বা বের করে দেয়া গ্লোবাল পলিসির জন্য ঠিক হবে না। এখন মেইন কারা হু আর দ্যা বিগেস্ট বেনিফিসিয়ারিজ? ইউএসএ এক দিকে আরেক দিকে চায়না। তাদের ডমিনেন্স চলে আসবে। এটাকে স্ট্যাবিলাইজ করতে হলে ইউরোপকে স্ট্যাবিলাইজ করে ইউরোপের সিকিউরিটি নিয়ে কমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ আসতে হবে তবে ইউএন বেজ প্রিন্সিপ্যালে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বটা রাখতে হবে। ইউ ক্যান্ট জাস্ট গো অন এন্ড ওকোপাই। এটা যদি না বন্ধ করতে পারা যায় দ্যাট সেটস এ ব্যাড প্রেসিডেন্স। আর ইউরোপকেও বুঝতে হবে রাশিয়াকে পুরোপুরি করনার্ড করা সম্ভব হবে না। ইউরোপিয়ান ইকোনোমি ইজ ইন ট্রাবল- হাই ইনফ্লেশন, ইউরো সেলস নাউ লেস দেন ডলার। প্রজেকশন আছে যে যুদ্ধ যদি দির্ঘ হতে থাকে তবে এনার্জি প্রাইস আবার ১০০ ডলারের উপরে চলে যাবে। তাই ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক অর্ডার ওয়ার্ল্ড পলিটিক্যাল অর্ডার সিড টু অল কাম ব্যাক টু অর্ডার। ইউএনকে অকার্যকর দেখা যাচ্ছে। কেননা তাদের যে মেইন সিকিউরিটি কাউন্সিলের ৫ জনের মধ্যে একজনও যদি অন্যায় করে তাহলে বাকি ওরা কোথায় যাবে। বাট আমি যেটা দেখি যে চায়না আর ইন্ডিয়া কলড ফর সেটেলমেন্টস । দিজ ইজ এ গুড থিং। এখন ইউরোপ এবং আমি মনে করি বাইডেনেরও যা করতে হবে তা হলো হি শুড ফ্যাসিলেট রাদার দেন ফারদার পুস দ্যা ওয়ার। ইউরোপকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে আর রাশিয়াকে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ আসতে হবে।
জুলিয়া: আপনাকে ধন্যবাদ
ড. সাদিক: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
একাত্তর/এসি
