দেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের হার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অসংক্রামক রোগ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২২ সালের জরিপের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দেশে উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা ২৪ দশমিক ৬ এবং ডায়াবেটিসের ব্যাপকতা ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
জাহিদ মালেক বলেন, বিশ্বায়ানের যুগে বাংলাদেশে হৃদরোগ, লিভার, কিডনি, ট্রোক ইত্যাদি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বহুবিধ কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ খাদ্যাভ্যাস। এছাড়া দেশে বুদ্ধিভিত্তিক পেশার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মানুষের কায়িক পরিশ্রম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে, উপরন্তু তামাক, বিড়ি, সিগারেটের ব্যবহার অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা উল্লিখিত রোগের অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে।
করোনার ব্যয় প্রকাশ সমীচীন হবে না
মন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত ও কোভ্যাক্স হতে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মতামত এবং অর্থ বিভাগ, সিসিজিপি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে সর্বোচ্চ সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। উল্লেখ্য, নন-ক্লোজার এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয় করায় মহান সংসদে অর্থ খরচের হিসাব প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।
এর আগেও করোনার টিকা ও চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত প্রশ্নে একাধিকবার একই জবাব দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশে এইডসে মারা গেছে ১৮২০
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান দেশে বর্তমানে ৯ হাজার ৭০৮ জন এইডস রোগী রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছে ছয় হাজার ৭৫ জন এবং মারা গেছে এক হাজার ৮২০ জন।
৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশে উৎপাদিত হয়
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের ১৫৭ টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রায় সব ধরণের ওষুধ রপ্তানি হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরের জুন-আগস্ট পর্যন্ত দুই হাজার ২৪৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৮ টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়েছে।
তামাকে বছরে মৃত্যু এক লাখ ৬১ হাজার
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। চট্টগ্রামের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তামাক ব্যবহার, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বাংলাদেশে বছরে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিন এশীয় আঞ্চলিক আফিসের বাংলাদেশ ফ্যাক্টশিট-২০১৮ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।
মন্ত্রী বলেন, তামাকজনিত কারণে মৃত্যুহার কমানোর জন্য তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে সেবা বিভাগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদপ্তর-দপ্তর, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
জাহিদ মালেক বলেন, তামাকের ব্যবহার কমানোর জন্য তামাকের উপর উচ্চহারে করারোপ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশের আগেই তামাকের ওপর কর বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব সম্বলিত ডিও লেটার অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, শিশু- কিশোর তরুণদের তামাকের নেশায় ধাবিত করতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট পণ্য বাজারে এনেছে। ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ ৩২টির বেশি দেশ ইতোমধ্যে এ পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। আরও অনেক দেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশেও ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বেসরকারি ক্লিনিক নিয়ন্ত্রণে আইন হচ্ছে
বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার নামে রোগীদের হয়রানি করা হয় এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা আইন-২০২৩ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। আইনটি প্রণয়ন হলে বেসরকারি পর্যায়ে রোগ নির্ণয়সহ স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
