ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘সেনডর মেডিকেইডস’-এর সঙ্গে দশ বছর মেয়াদি চুক্তির সময়সীমা আগামী নভেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তিটি আর নবায়ন না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ফলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এই দুই শীর্ষ সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চিকিৎসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে আসছে সরকারের সরাসরি অধীনে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর ডায়ালাইসিস ব্যবস্থাপনায় ভারতীয় সংস্থার ওপর থেকে নির্ভরতা কেটে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার ‘সেনডর মেডিকেইডস’-এর সঙ্গে এই চুক্তিটি সম্পাদন করেছিল। চুক্তির পর থেকেই দেশের বৃহৎ এই দুই হাসপাতালে প্রতিষ্ঠানটি ডায়ালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বারবার তাদের বিরুদ্ধে ওঠে, যা নিয়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে।
এসব ভোগান্তি অবসানের লক্ষ্যেই আর চুক্তি না বাড়িয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিখরচায় বা সাশ্রয়ী মূলে নিরবচ্ছিন্ন ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করার এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
হঠাৎ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের ফলে যেন রোগী চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ঢাকার কিডনি ইনস্টিটিউটের ৫৯টি এবং চট্টগ্রাম মেডিকেলের ৩১টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে জনবল নিয়োগের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে অন্তত আড়াই হাজার নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকার বিখ্যাত 'কিডনি ফাউন্ডেশন'। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই হাসপাতাল দুটির পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের পরিবার। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ এতদিন ধরে চলে আসছিল, সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের পর যেন সেই একই ভোগান্তি নতুন মোড়কে ফিরে না আসে—এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি।
