সারা দেশে এডিস মশার মারাত্মক দাপট আর ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী ছোবল কিছুতেই থামছে না! মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ছয় জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা দুই হাজারের কোটা ছাড়িয়ে গেছে, একদিনে নতুন করে হাসপাতালে শয্যা নিয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।
রোববার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিন ও হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া সার্বিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নতুন ৬ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। বিশেষ করে চলতি অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই এডিস মশার কামড় যেন আরও বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে। অক্টোবর মাসের প্রথম ১৭ দিনেই মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছেন ১০৩ জন! এর আগে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল সেপ্টেম্বরে- ১৪৮ জন। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন এবং বছরের শুরুর দুই মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে রোগী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আরও ২ হাজার ৮৮ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। নতুন এই রোগীদের নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এটি নিয়ে চলতি বছরে মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগেই এডিসের কামড় সবচেয়ে বিষাক্ত রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ১ হাজার ৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন একা ঢাকা বিভাগেই! অন্যান্য বিভাগের চিত্রও বেশ আশঙ্কাজনক- খুলনায় ২৯০ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, চট্টগ্রামে ১৬১ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে ৭২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে ডেঙ্গুর হটস্পটগুলোতে লার্ভা নিধনে ঝটিকা অভিযান না চালালে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আরও সচেতন না হলে চলতি অক্টোবরের শেষভাগে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
