প্রফেসর স্টিফেন হকিংয়ের শনাক্ত করা পদার্থবিজ্ঞানের একটি প্যারাডক্সের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
সত্তরের দশকে এই প্যারাডক্সটি শনাক্ত করেন স্টিফেন হকিং। এ প্যারাডক্স অনুযায়ী, কৃষ্ণগহ্বরের আচরণ পদার্থবিজ্ঞানের দু'টো মৌলিক তত্ত্বকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
এর যেকোনো একটিকে মেনে চললে অপরটিকে মেনে চলে না কৃষ্ণগহ্বর। তবে নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, কৃষ্ণগহ্বরের 'কোয়ান্টাম হেয়ার' নামক বৈশিষ্ট্য এই প্যারাডক্সকে সমাধান করে।

বিশালাকৃতির নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তা ধ্বংস হয়ে ব্ল্যাক হোলের সৃষ্টি হয়
কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল বলতে বোঝায় সেসব মৃত নক্ষত্র যাদের মাধ্যাকর্ষণ বল এতই শক্তিশালী যে আলোও তাদের পৃষ্ঠতল থেকে নির্গত হতে পারে না।
এই সমাধান আবিষ্কারের জন্য যে গাণিতিক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে তা বের করেছেন সাসেক্স, বলোনিয়া ও মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।
সেখানকার অধ্যাপক জেভিয়ার ক্যালমেট বলেন, নক্ষত্রের উপাদানগুলো ব্ল্যাক হোলের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রের ওপর এক ধরনের ছাপ রেখে যায়, যার নাম দেয়া হয়েছে কোয়ান্টাম হেয়ার।
কোয়ান্টাম হেয়ারের এই ধারণা ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে পূর্ববর্তী ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। ষাটের দশকে ব্ল্যাক হোলের 'নো হেয়ার থিওরেম' তত্ত্বের অবতারণা করেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন আর্চিবল্ড হুইলার।
ব্ল্যাক হোলের গাণিতিক ব্যাখ্যা থেকে এ তত্ত্বের এমন নাম রাখেন তিনি। কেননা ব্ল্যাক হোল এমন একটি বস্তু যার ভর, ঘূর্ণন এবং চার্জ রয়েছে কিন্তু অন্য কোনো শারীরিক বৈশিষ্ট্য নেই। অর্থাৎ একে এক কথায় 'টেকো' বলা যায়। তাই এ তত্ত্বের নাম নো হেয়ার থিওরেম।
অধ্যাপক ক্যালমেটের এই ইয়েস হেয়ার থিওরিকে পদার্থবিজ্ঞানের বৈপ্লবিক আবিষ্কার বলে মনে করা হচ্ছে, কেননা এটি এ জগতের অন্যতম প্যারাডক্সকে সমাধান করতে পারে।
হকিংয়ের প্যারাডক্স অনুযায়ী কোয়ান্টাম মেকানিক্স অথবা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্রের মধ্যে যেকোনো একটিকে ভুল বলে ধরে নিতে হয়। তবে এটি পদার্থবিদদের জন্য ভীতিকর বিষয়, কেননা মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষ যা জানে বা বোঝে তার প্রায় পুরোটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই দুই তত্ত্বের ওপর ভর করে।
ইয়েস হেয়ার থিওরেম আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মধ্যকার দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিয়ে হকিংয়ের প্যারাডক্সটি সমাধান করে বলে দাবি করে। এই দুই নিয়মের একটিকেও লঙ্ঘন না করে কীভাবে তথ্য ব্ল্যাক হোলে প্রবেশ করে আবার বেরিয়ে আসতে পারে তা এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়।
আপেক্ষিকতার সূত্র ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মধ্যে বন্ধন ঘটানোর জন্য ইয়েস হেয়ার থিওরেম প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। স্টিফেন হকিংয়ের প্যারাডক্সের মাধ্যমেই এই দুই তত্ত্বের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা প্রকট হয়ে ধরা পড়ে।
