সম্প্রতি 'দেশে-বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের সত্যতা' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার (১০ আগস্ট) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েন পিন বেইজিংয়ে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, দাস-ব্যবসা আমেরিকার আসল পাপ। লাখ লাখ কালো দাসের রক্ত ও অশ্রু এবং কয়েক হাজার চীনা শ্রমিকের হাড়ভাঙা খাটুনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জোরপূর্বক শ্রমের প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, এখনও অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে ‘আধুনিক দাসত্বের’ শিকার। কারাগার হলো যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমের সবচেয়ে গুরুতর জায়গা। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিকাজ, গৃহস্থালি, ক্যাটারিং, পর্যটন, চিকিত্সায় বাধ্যতামূলক শ্রমের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। শিশু ও নারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক শ্রম আদায় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদনে সিনহুয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত মানব পাচার ও অন্যান্য দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়। প্রতি বছর প্রায় এক লাখ লোককে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়।
আরও পড়ুন: ৫২ টাকার নিচে চাল নেই, দাম বাড়লো ‘সবকিছুর’
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন ও সুপারিশ বাস্তবায়নের বিশেষজ্ঞদের কমিটি এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের মানব পাচার সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদক অনেকবার একই প্রশ্ন ও সমালোচনা উত্থাপন করেছেন বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রম বাজার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের পর অন্য দেশের মানবাধিকার বিষয়ের মূল্যায়ন করার কোনো অধিকার নেই যুক্তরাষ্ট্রের। একতরফাভাবে এসব অজুহাতে কারো ঊপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করারও অধিকার নেই দেশটির।
একাত্তর/আরবিএস
