যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বুকার জয়ী লেখক সালমান রুশদির উপর হামলার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে ইরান থেকে। ১৯৮৮ সালে যখন এ লেখকের চতুর্থ উপন্যাস 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' প্রকাশ পায়, তখন থেকেই এ বিতর্কে জুড়ে যায় ইরানের নাম। সে সময় রুশদিকে হত্যার প্রথম ফতোয়া এসছিল ইরান থেকে।
ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা শনিবার বলেছেন, রুশদির উপর হামলার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো অতিরিক্ত তথ্য নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানি না, তাই আমরা মন্তব্য করবো না।
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য না করলেও তেহেরানে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক কয়েকজন লেখককে লক্ষ্য করে হামলার প্রশংসা করেছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, রুশদি তার স্যাটানিক ভার্সেস বইয়ে ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করেছেন।
অন্যদিকে দেশটির অনেক নাগরিক এ জন্যও চিন্তিত যে, এ ঘটনার জেরে বিশ্ব থেকে ইরান আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। কারণ হিসবে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কথা উল্লেখ করেন তারা। ওই যুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বন্দ্ব জড়িয়েছে ইরান।
৩৯ বছর বয়সী ভূগোল শিক্ষক মাহশিদ বারাতি বলেন, আমি অনুভব করি যারা (রুশদির উপর হামলা) এটি করেছে তারা বিশ্ব থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। এর ফলে অনেকের সাথে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, এমনকি রাশিয়া এবং চীনের ক্ষেত্রেও।
ইরানের সাবেক কূটনীতিক মাশাল্লাহ সেফাতজাদেহ সতর্ক করে বলেন, এটি (রুশদির ওপর হামলা) ইরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলবে।
এদিকে যে ব্যক্তি রুশদির ওপর হামলা চালিয়েছে শনিবার ইরানের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র তার প্রশংসা করেছে।
আর ইরানের বিরোধী দল ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ রেজিস্ট্যান্স অফ ইরান বলেছে, খোমেনির ডিক্রির (ফতোয়া) "প্ররোচনায়" এই হামলা হয়েছে।

১৯৮৮ সাল, রুশদির ফাঁসির দাবিতে ইরানে বিক্ষোভ
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৮৮ সালে একটি ধর্মীয় ফতোয়া ঘোষণা করেছিলেন। যেখানে সালমান রুশদির বই 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' এর উপর ধর্মাবমাননার অভিযোগ আনা হয় এবং এ জন্য রুশদিকে হত্যা করার আহ্বান জানানো হয়। রুশদির মাথার দাম ধরা হয় ৩০ লাখ।
এর আগে গেলো শুক্রবার নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের শটকুয়া ইন্সটিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা করতে ওঠার সময় অভিযুক্ত হাদি মাতার হামলা চালান রুশদির উপর।
১৯৪৭ সাল বোম্বে শহরে (বর্তমান মুম্বাই) জন্ম সালমান রুশদির। ১৪ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ড চলে যান। রাগবি শহরের একটি স্কুলে ভর্তি হন। পরে কেমব্রিজের কিংস কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর ব্রিটিশ নাগরিকত্বও অর্জন করেন রুশদি।
আরও পড়ুন: অবশেষে খোলাবাজারে কমলো ডলারের দাম
সালমান রুশদি প্রকাশিত প্রথম বই গ্রিমাস। খুব বেশি সাফল্য না পেলেও লেখক হিসেবে নিজের নাম পাকাপোক্ত করে তিনি। এরপর আসে দ্বিতীয় উপন্যাস মিডনাইট’স চিলড্রেন ১৯৮১ সালে মিডনাইটস চিলড্রেনের জন্য বুকার পুরস্কার জিতে নেন রুশদি। বিক্রি হয় পাঁচ লাখ কপি। ১৯৮৩ সালে আসে তৃতীয় উপন্যাস শেম।
কিন্তু ১৯৮৮ সালে যখন তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশ পায়, তখন সাড়া দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন রুশদি। স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা। এটি প্রকাশের পর থেকে রুশদি যেমন জনপ্রিয়তা পেয়ছেন তেমনই পেয়ছেন হত্যার হুমকি।
একাত্তর/আরবিএস
