স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদ। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় প্রিয় আবাসস্থল। সেই প্রিয় প্রাসাদেই বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছেন ৯৬ বছরের রানি।
ইংল্যান্ডের বাইরে রানির মৃত্যুর কারণে দেশটির শাসকদের একটি মধুর সমস্যায় পড়তে হয়েছে। লন্ডনের বাকিংহাম বা বার্কশায়ারের উইন্ডসর প্রাসাদে মারা গেলে সেটি হতো না।
এতোদিন রানির মৃত্যু পরবর্তী দিনগুলোর জন্য করণীয় ঠিক করে নেয়া কর্মসূচির রাম রাখা ছিলো ‘অপারেশন লন্ডন ব্রিজ’। কিন্তু স্কটল্যান্ডে মারা যাবার কারণে সে নাম বদলাতে হলো।
স্কটল্যান্ডের প্রতীক ইউনিকর্নের অনুসারে সেই নাম বদলে হয়েছে, অপারেশন ইউনিকর্ন। এই নামেই পরিচিত হচ্ছে রানির প্রয়াণের পরবর্তী কর্মসূচিগুলো।

রানি এলিজাবেথের মৃত্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দপ্তরসহ দেশটির সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগামী এক সপ্তাহ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
স্থগিত থাকবে পার্লামেন্টের অধিবেশনসহ যাবতীয় সরকারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি। যাবতীয় বাণিজ্যিক কার্যকলাপও বন্ধ রাখা হবে।
তবে ‘অপারেশন ইউনিকর্ন’ অনুযায়ী নতুন রাজা চার্লস রাজকীয় বিধি মেনে তাঁর পূর্বসূরির মৃত্যু পরবর্তী সব ধরনের আচার আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করবেন।
অপারেশন ইউনিকর্নেরই অংশ হিসাবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসির উপস্থাপকসহ সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের কালো পোশাক পড়তে দেখা যাচ্ছে।
এই কর্মসূচির অধীনে প্রথা মেনে বাকিংহাম প্যালেসে রানির পারলৌকিক অনুষ্ঠান হবে। এতে অংশ নেবে রাজপরিবারের সদস্য ও আত্মীয়। থাকবে প্রথম সারির রাজনীতিকরাও।

এতোদিন ব্রিটিশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে রানির নামের প্রথম অক্ষর সম্বলিত পতাকাও বদলাতে হবে। সেখানে নতুন করে আসবে নতুন রাজা চার্লসের নামের প্রথম অক্ষর।
ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডে রানির ছবি বদলে গিয়ে আসবে চার্লসের ছবি। ব্রিটিশ ডাকটিকিটেও রানির বদলে আসবে রাজার ছবি।
আরও পড়ুন: ব্রিটিশ সিংহাসনে রাজা চার্লস, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শনিবার
শুধু ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড নয়, যে সব সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ দেশ এখনও উইন্ডসর রাজবংশের প্রতীক ব্যবহার করে, সেখানেও আসবে পরিবর্তনের হাওয়া।
বদলে যাচ্ছে ব্রিটেনের জাতীয় সঙ্গীতেও। সেখানে ফিরবে ‘গড সেভ দ্য কিং’। ‘ঈশ্বর আমাদের করুণাময়ী রানিকে রক্ষা করুন’ বদলে হবে ‘ঈশ্বর আমাদের করুণাময় রাজাকে রক্ষা করুন’।
অপারেশন ইউনিকর্নের মাধ্যমে পরিচালিত গোটা কর্মসূচিটি শেষ হতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারেই মনে করছেন ব্রিটিশ রাজের বিশ্লেষকরা।
একাত্তর/এসজে
