কঠোর নিরাপত্তায় জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের রাষ্ট্রীয়
শেষকৃত্য হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন বিশ্ব নেতারাসহ চার হাজারের বেশি মানুষ।
সাধারণ মানুষের আপত্তির পরও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের এই আয়োজন করছে সরকার। তাদের প্রশ্ন, কেন রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করে আবের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হচ্ছে?
অনেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিশাল ব্যয় নিয়েও ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, আবেকে শ্রদ্ধা জানাতে বিরাট অংকের খরচ না করে সেই অর্থ টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পেছনে ব্যয় করা উচিত ছিল।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রায় এক হাজার সেনা দায়িত্ব পালন করবে। সামরিক বাহিনীর অনার গার্ড আবেকে স্যালুট জানাতে কামান থেকে ছুড়বে ১৯টি ফাঁকা গোলা।
গত ৫৫ বছরের মধ্যে কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রের অর্থে এমন আয়োজন এই প্রথম। ৭০০ বিদেশি অতিথি অংশ নিচ্ছেন শিনজো আবের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে।
তাদের মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি টমাস বাখও রয়েছেন।
বিদেশি অতিথিদের অনেকের সঙ্গেই সোম ও মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। সেসব বৈঠকের ছবিও টুইটারে দিচ্ছে তার কার্যালয়।
টোকিওর কেন্দ্রস্থলে খেলাধুলা ও কনসার্টের জন্য খুবই পরিচিত নিপ্পন বুদোকানে হতে যাওয়া তার শেষকৃত্যে সবমিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ অতিথি থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় দুপুর দুইটা থেকে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে, তবে সকাল ১০টা থেকেই জনসাধারণ ফুল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে আবের প্রতি শ্রদ্ধায় শামিল হতে পারবে।

গেলো ৮ জুলাই ৪১ বছর বয়সী তেতসুইয়া ইয়ামাগামি খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে শিনজো আবে’কে। দুটি গুলি তার গলার ভেতর দিয়ে বিদ্ধ হয়।
হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাপানের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: বদলি করা হলো ইউএনও মেহরুবাকে
দু’বার তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম দফায় তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
মৃত্যুর চার দিন পর একটি ব্যক্তিগত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে শিনজো আবের মরদেহ দাহ করা হয়।
একাত্তর/আরবিএস
