দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে আরও কঠোর পদক্ষেপ। শনিবার থেকে ভারতের রাজধানী অঞ্চলে নতুন নির্মাণ এবং যেকোনো ধরনের ধ্বংস (স্থাপনা ভাঙা) কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশপাশি বন্ধ থাকবে বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, রেলপথ এবং মেট্রোরেল সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) জানিয়েছে, রাজ্যগুলো পেট্রোল এবং ডিজেল চালিত ফোর-হুইলারগুলোর চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
এছাড়া নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম এবং অন্যান্য অঞ্চলে আবাসন প্রকল্পগুলো প্রভাবিত হতে পারে।
দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় বায়ু মানের সূচক শনিবার বিকাল ৪টায় ৩৯৭ এ দাঁড়িয়েছে, যা গেলো জানুয়ারির পর সবচেয়ে খারাপ। বৃহস্পতিবার এ মাত্রা ছিল ৩৫৪, বুধবার ২৭১, মঙ্গলবার ৩০২ এবং সোমবার (দীপাবলি) ৩১২ ছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি বৈঠকে সিএকিউএম কমিশনের সাব-কমিটি উল্লেখ করে যে, প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং খামারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর ফলে আকস্মিক দূষণ বেড়েছে। অবিলম্বে জিআরএপি -এর তৃতীয় ধাপ কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জিআরএপি হলো দূষণ রোধ বিষয়ক আইন।
আরও পড়ুন: নর্ডস্ট্রিমে হামলার জন্য ব্রিটেনকে দায়ী করলো রাশিয়া
এ আইনের তৃতীয় পর্যায়ের অধীনে দিল্লি কর্তৃপক্ষকে নির্মাণ এবং স্থাপনা ভাঙার কার্যকলাপের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে শিল্প এলাকায় অনুমোদিত জ্বালানিতে চলমান নয় এমন শিল্পগুলো বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানকে এ নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা কর্তৃপক্ষ বলছে, দিল্লির পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস
