ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় আবারো ফিরছেন লুলা দা সিলভা। ৭৭ বছর বয়সি
বামপন্থী এই নেতার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। যার মধ্যে অন্যতম আমাজন বনকে সুরক্ষিত করা।
জইর বলসোনারোর নানা পদক্ষেপ পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত আমাজনে যে ক্ষত তৈরি করেছে লুলা কি পারবেন তা সারাতে?
একসময় বিশ্বের কাছে ব্রাজিল ছিলো প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের দৃষ্টান্ত। আদিবাসীদের ভূমি সংরক্ষণ, অবৈধভাবে বন উজাড়কারীদের ওপর ধরপাকড়, কী পরিমাণ বন ধ্বংস হচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যক্ষণ করায় একসময় দেশটিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিলো বন উজারের হার ।
তবে ২০১৯ সালে পালটে যায় পরিস্থিতি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জইর বলসোনারো। বলসোনারোর শাসনামলে আমাজন জঙ্গল ধ্বংসের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে পরিবেশের সুরক্ষাজনিত পদক্ষেপগুলো।

গবেষণায় দেখা গেছে, বন উজাড় এবং আগুনের কারণে আগের দশকের তুলনায় ২০১৯ ও ২০২০ সালে দেশটিতে কার্বন ডাই–অক্সাইড নির্গমনের হার দ্বিগুণ হয়েছে।
২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলসোনারোর শাসন মেয়াদের প্রথম তিন বছরে আগের একই সময়ের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি বন এলাকা উজাড় হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দাবানলে ধ্বংস হওয়া বন এলাকাকে বাদ দিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে।
লুলা দা সিলভা আবারও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আশার আলো দেখছেন পরিবেশবিদরা। প্রশ্ন হলো লুলা কি পারবেন আমাজনের ক্ষত সারতে?

ব্রাজিলের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা--আইএনপিই-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৪ সালে আমাজন জঙ্গলের ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ধ্বংস হতে দেখা গিয়েছিল।
তবে ২০১২ সাল নাগাদ বন ধ্বংসের এলাকা কমে ৪ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়ায়। এই আট বছরের মধ্যে বেশির ভাগ সময় ক্ষমতায় ছিলেন লুলা।
লুলা তার আগের শাসন মেয়াদে পরিবেশ নিয়ে যেমন ভূমিকা দেখিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার বিজয় আমাজনের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লুলা যদি তার আগের মেয়াদের মতো করে বন উজাড়ের হার কমাতে পারেন, তাহলে আগামী দশকে বন উজাড়ের হার ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
একাত্তর/আরবিএস
