গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপ-মন্ত্রী ও ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক আলিরেজা আকবরীর ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা বিবিসি।
দুইদিন আগে আকবরীর পরিবারকে তার সাথে 'শেষ দেখা' করতে কারাগারে যেতে বলা হয়েছিল। তাকে নির্জন কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী।
ফাঁসি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে ইরানের বিচার বিভাগের অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম মিজান জানিয়েছে, আলিরেজা আকবরীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপ-মন্ত্রীকে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে যুক্তরাজ্যের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, যা তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
আলিরেজা আকবরীর ফাঁসি কার্যকর বন্ধ করে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ব্রিটেন।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লেভারলি সতর্ক করে বলেন, ফাঁসি দেয়ার নৃশংস হুমকি ইরানের কার্যকর করা উচিত নয়।
এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, এটি একটি বর্বর শাসনের দ্বারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ যা মানবজীবনকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করেছে।
ইরান এই সপ্তাহে আকবরীর একটি ভিডিও পোস্ট করে, যেখানে দেখা যায় তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিবিসি ফার্সি বুধবার আকবরীর কাছ থেকে একটি অডিওবার্তা সম্প্রচার করে, যাতে তিনি বলেন তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ক্যামেরার সামনে সেই অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছে যা তিনি করেননি।
অডিওবার্তায় তিনি আরও বলেন, কয়েকবছর আগে তিনি বিদেশে অবস্থান করার সময় বিশ্বশক্তির সাথে পারমাণবিক আলোচনায় জড়িত একজন শীর্ষ ইরানি কূটনীতিকের অনুরোধে তাকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, সেখানে পৌঁছানোর পর তার বিরুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী শামখানির কাছ থেকে 'এক বোতল পারফিউম এবং একটি শার্টের বিনিময়ে' গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রুশ সেনাবাহিনীকে জেলেনস্কির উপহাস
আকবরীর অভিযোগ, তাকে গোয়েন্দা এজেন্টরা সাড়ে তিন হাজার ঘন্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করেছে এবং 'ইরান তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে যুক্তরাজ্যের উপর প্রতিশোধ নিতে চায়'।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ইরানের নৈতিকতা পুলিশ এবং অন্যান্য শীর্ষ নিরাপত্তা ব্যক্তিত্বদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর যুক্তরাজ্য এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান গুপ্তচরবৃত্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে দ্বৈত নাগরিকত্বপ্রাপ্ত বা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী কয়েক ডজন ইরানিকে গ্রেপ্তার করেছে।
একাত্তর/এসজে
