শক্তিশালী ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়াতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর খবরে শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এরই মধ্যে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্কে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান জানান, ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে জনিয়েছে বাইডেন। তুরস্কে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এরিমধ্যে তুরস্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের জানিয়েছি আমরা সব প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত সিরিয়া ও তুরস্ককে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। রাশিয়া আরো জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের নিয়ে তাদের দুইটি ইলিউশিন-৭৬ উড়োজাহাজ তুরস্কে উড়ে যেতে এবং উদ্ধার কাজে হাত লাগাতে প্রস্তুত আছে।
ভূমিকম্পের পর এরদোয়ানকে পাঠানো এক বার্তায় পুতিন অসংখ্য প্রাণহানি এবং বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির এ ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় আপনার যে ধরণের সহায়তা প্রয়োজন আমরা সেটা করতেই প্রস্তুত আছি।
প্রেসিডেন্ট আসাদকেও এক ধরণের বার্তা পাঠান পুতিন। তিনি বলেন, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে প্রিয়জনকে হারিয়ে যারা গভীর দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে আছেন, রাশিয়া তাদের সেই কষ্ট ভাগ করে নিচ্ছে এবং একইসঙ্গে সব ধরণের সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে।
তুরস্কের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তুর্কি নেতাকে উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, তুরস্কের ভূমিকম্পে যে অপূরণীয় ক্ষতি হল, তার জন্য আমি মর্মাহত। মৃতের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এই কামনা করি। এই বিপদের সময়ে তুরস্কের পাশে দাঁড়িয়ে সব সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত।
দুর্যোগপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কথাও জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সোমবার এ ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব তুরস্কে যাবেন চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীরা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। টুইটে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, তুরস্কের সঙ্গে আছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত ইউক্রেনের জনগণ।
অপরদিকে ইসরাইল সরকারও তুরস্ককে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সামরিক জোট ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়াও বিশ্বের ৪৫টি দেশ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তুরস্কের সরকারকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর পরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুতই এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুর্কি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কাহরামানমারাস প্রদেশে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার দুই ঘণ্টার মধ্যে ৪২টি আফটারশক হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: মৃত্যু ধ্বংসপুরীতে পরিণত তুরস্ক-সিরিয়ার বিশাল এলাকা
আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর চারটা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল পাজারচিক জেলায়। এটি ঘটে ৭ কিলোমিটার গভীরে। দিয়ারবাকির ও গাজিয়ানটেপসহ অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশ এবং লেবানন ও সিরিয়া, সাইপ্রাসসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত তুরস্ক ও প্রতিবেশি সিরিয়ায় দুই হাজারের বেশি প্রাণহানি ও সাত হাজারের বেশি আহত হয়েছে। অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংস স্তুপের নিচে আটকা পড়ে আছে অনেকে। তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চলছে। সাধারণ মানুষও এসব অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
একাত্তর/এআর
