ভারতের দিল্লি ও মুম্বইয়ে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (বিবিসি) অফিসে আজ তৃতীয় দিনের মতো তল্লাশি চালাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, বিবিসির দুই অফিসে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চলছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার কর ও অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পর্কিত আর্থিক তথ্যের জন্য এ অভিযান শুরু করেন আয়কর কর্মকর্তারা। এসময় বিবিসির আর্থিক লেনদেন বিষয়ক ইলেকট্রনিক ও কাগুজে নথির প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
অন্যদিকে বিবিসি অফিসে উপস্থিত থাকা সংবাদকর্মীদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার কর্মীদের এক ইমেইল বিবিসি জানায়, কর্মীদেরা যেন তদন্তকাজে সহযোগিতা করেন। সম্প্রচার বিভাগ ছাড়া বাকি সব কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরইমধ্যে এ অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। পাশপাশি এ ধরণের অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
ভারতে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন এডিটর্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে বিবিসি কার্যালয়ে অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়াও ভারতের প্রেসক্লাব এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
এর আগে দুই পর্বে প্রকাশিত হয়েছিল বিবিসির তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদি কোয়েশ্চেন’। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রচারিত ওই তথ্যচিত্রকে ঘিরেই এ অভিযান, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ অভিযান ঘিরে ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় ২০০২ সালে রাজ্যে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে গবেষণাধর্মী তথ্যচিত্রটি তৈরি করে বিবিসি। যেখানে মোদিকে দাঙ্গার জন্য দায়ি করা হয়।
প্রচারে যাওয়ার পরপরই তথ্যচিত্রটি ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনকি সমস্ত সামাজিক মাধ্যম থেকেও তথ্যচিত্রটি তুলে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। টুইটার, ইউটিউবকেও ওই সংক্রান্ত সমস্ত টুইট এবং ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়।
মোদি বিরোধী শিবিরের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে মোদি সরকার সামগ্রিক বিরোধিতাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে।
তারা বলছেন, মোদিকে নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র প্রকাশের পরপরই বিবিসি অফিসে আয়কর অভিযান অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করে দিল।
একাত্তর/আরবিএস
