গ্রিসে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী কোস্তাস কারামানলিস।
বুধবার (১ মার্চ) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। খবর: বিবিসি।
এসময় তিনি বলেন, ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর আর তার দায়িত্বে থাকা মানায় না। তার এখনই সরে যাওয়া উচিত।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে লারিসা শহরে বিপরীতমুখী দুইটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেন দুটির মধ্যে একটি ছিল যাত্রীবাহী। এতে বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৫০ জন।
জানা যায়, যাত্রীবাহী একটি ট্রেন গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে উত্তরাঞ্চলীয় শহর থেসালোনিকির দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে লারিসার দিকে আসছিল একটি মালবাহী ট্রেন। যাত্রাপথে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীবাহী ট্রেনটির কয়েকটি বগিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
থেসালি অঞ্চলের গভর্নর কনস্তান্তিনোস অ্যাগোরাস্তোস জানান, কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে- তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, যাত্রীবাহী ট্রেনটিতে অন্তত সাড়ে তিনশ যাত্রী ছিল।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষটি খুব শক্তিশালী ছিল। যাত্রীবাহী ট্রেনটির চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে ও প্রথম দুটি বগি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যুবক গ্রিক সম্প্রচারমাধ্যম এসকেএআইকে বলেন, ট্রেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, লোকজন ভয়ে চিৎকার করছিল। এটি ছিল অনেকটা ভূমিকম্পের মতো ছিলো।
বুধবার (১ মার্চ) দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেন গ্রিসের পরিবহনমন্ত্রী কোস্তাস কারামানলিস। এরপর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগ করা তার ‘কর্তব্য’ বলে অভিহিত করে কোস্টাস বলেন, দুর্ঘটনায় মানুষের যন্ত্রণা অবর্ণনীয়। যখন মর্মান্তিক কিছু ঘটে, তখন এমন ভাব ধরে থাকা অসম্ভব যে কিছুই ঘটেনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি
পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, আমি এটাকে আমাদের গণতন্ত্রের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান বলে মনে করি যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নাগরিকরা বিশ্বাস করেন। এটা রাজনৈতিক দায়িত্ব।
একাত্তর/জো
