চলতি বছর পাঁচ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি চায় করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে।
রোববার (৫ মার্চ) ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) বার্ষিক সভার উদ্বোধনী দিন চীনের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং সরকারি কাজের প্রতিবেদন তুলে ধরার সময় এ তথ্য প্রকাশ করেন। খবর: সিএনএন।
প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চীনের অর্থনীতি বর্তমানে একটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে আরও প্রবৃদ্ধির জন্য বিপুল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
এনপিসির উদ্বোধনী অধিবেশনে সারা দেশের তিন হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের সামনে খসড়া বাজেটসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়। তাতে দেশটিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি বেকারত্ব কমার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শহরাঞ্চলে নতুন করে এক কোটি ২০ লাখ নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
করোনার কারণে ২০২০ সাল থেকে চীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। ২০২২ সালে তা ৩ শতাংশে নেমে আসে। মূলত ‘শূন্য কোভিড নীতি’র কারণে দেশটিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যায়। সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয় ও কারখানাগুলোয় উৎপাদন কমে যায়। এর প্রভাব পরে প্রবৃদ্ধিতে।
সেই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় রয়েছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে ‘শূন্য কোভিড নীতি’ থেকে বের হয়ে আসে চীন। এতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে শুরু করে।
বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, চীনের কারখানাগুলোর কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি মাসে গত প্রায় ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছে। সেবা ও সরবরাহ খাতও ভালো করেছে।
আরও পড়ুন: ইরানে মেয়েদের আরও ৩০ স্কুলে বিষাক্ত গ্যাস হামলা
অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়টি উঠে এসেছে ঋণমান যাচাইকারী বৈশ্বিক সংস্থা মুডিস’র পূর্বাভাসেও। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চীনের জন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে মুডিস। গত বছর তা ৪ শতাংশ ছিল।
একাত্তর/জো
