ভারতে হিন্দু আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলোর মুসলিমবিদ্বেষ ছড়ানো নিয়ে আলজাজিরার তৈরি একটি তথ্যচিত্রের সম্প্রচার স্থগিত করেছে দেশটির একটি আদালত। আগামী ৬ জুলাই আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
বুধবার উত্তর প্রদেশ রাজ্যের এলাহাবাদ হাইকোর্ট ‘ইন্ডিয়া...হু লিট দ্য ফিউজ?’ সম্প্রচার স্থগিত করে বলেছে, এর ফলে ‘মন্দ পরিণতি’ হতে পারে৷
তথ্যচিত্রটির বিরুদ্ধে এক ভারতীয় নাগরিকের দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে আদালত বলে, ‘চলচ্চিত্রের সম্প্রচারে ঘটতে পারে এমন খারাপ পরিণতি বিবেচনা করে...আমরা মনে করি যে বিতর্কিত চলচ্চিত্রটির সম্প্রচার স্থগিত করা উচিৎ’।
আবেদনকারী সুধীর কুমার অভিযোগ করেছেন যে, ডকুমেন্টারিটি নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করতে এবং ভারতের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
কর্তৃপক্ষ তথ্যচিত্রটির বিষয়বস্তু পরীক্ষা না করে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন ছবিটি সম্প্রচার বা প্রচার না করা হয় তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে আদালত ভারত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।
‘ইন্ডিয়া...হু লিট দ্য ফিউজ?’ তথ্যচিত্রটি আল জাজিরার পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক তদন্ত সিরিজের অংশ। এটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর মতো হিন্দু আধিপত্যবাদী সংগঠনগুলির কার্যকলাপকে উন্মোচন করার দাবি করে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চরম ডানপন্থী মতাদর্শিক পরামর্শদাতা।
তথ্যচিত্রটিতে আরএসএসের একজন দলত্যাগীর সাথে একটি সাক্ষাত্কার দেখানো হয়েছে, যিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা তত্ত্বাবধানে আরএসএস শিবিরে তার প্রশিক্ষণের চমকপ্রদ বিবরণ প্রকাশ করেছেন।
ছবিটিতে বিজেপি শাসিত উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামে প্রায় সাত লাখ মুসলমানদের হয়রানি ও টার্গেট করার চিত্রও দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালে একটি নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর থেকে, আসামের বাংলাভাষী মুসলমানরা তাদের জাতীয়তা হারানোর এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে নির্বাসিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
বিজেপির একজন মুখপাত্র ডকুমেন্টারিতে উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে আইনের শাসনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মুসলমানদের টার্গেট করার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হবে।
আরও পড়ুন: প্রথম মুসলিম নারী ফেডারেল বিচারক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত
আল জাজিরা ডকুমেন্টারির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপটি বিবিসির একটি চলচ্চিত্রের উপর আরোপিত অনুরূপ নিষেধাজ্ঞার পর এলো, যেটি গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মোদির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গুজরাটে ২০০২ সালে দাঙ্গার সময় এক হাজারেরও বেশি মুসলমান নিহত হয়েছিল, যদিও অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর দ্বিগুণ।
একাত্তর/এসজে
