এ কি কাণ্ড! শেষ পর্যন্ত দুধেও মিলেছে প্রাণঘাতী ভাইরাস বার্ড ফ্লু। আর দুধে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলতেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে মানবদেহেও কি ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস? মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছে, সেটি নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।
মহামারি শব্দটির সঙ্গে পরিচয় থাকলেও, তা কতটা ভয়ঙ্কর, তা আমরা করোনা সংক্রমণ থেকে আন্দাজ পেয়েছি। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও একটা মহামারির শঙ্কা। এবার বার্ড ফ্লু নিয়ে আতঙ্ক। বিগত কয়েক মাস ধরেই ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে বার্ড ফ্লু।
এমন সময়েই এফডিএ জানালো, একটি জাতীয় সমীক্ষায় পাস্তুরিত বা প্রক্রিয়াজাত গরুর দুধের প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি নমুনায় বার্ড ফ্লু ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেচে। সংক্রামক বার্ড ফ্লু এরিমধ্যেই আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যের গরু প্রতিপালন ও গোয়ালে ছড়িয়ে পড়েছে। লক্ষাধিক মুরগির মৃত্যু হয়েছে।
তবে এফডিএ বৃহস্পতিবার কিছুটা আশ্বস্ত করে বলেছে, এই দুধ পানে বিপদ হতে পারে এবং জীবন্ত ভাইরাস পাওয়া গেছে এমন কোন প্রমাণ তাদের হাতে নেই। দুধে অক্ষত প্যাথোজেন এখনও উপস্থিত আছে কিনা এবং এটি সংক্রামক থেকে যায় কিনা, তা নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন।
খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, জরিপে আক্রান্ত প্রাণীর দুধে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এবং প্রক্রিয়াকরণের শেষেও একই অবস্থা দেখা গিয়েছে। পাস্তরিতকরণের প্রক্রিয়ার সময় উত্তাপের কারণে ভাইরাসটি নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে। নমুনায় কেবল প্যাথোজেনের জেনেটিক উপাদান পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর দুধে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস শনাক্ত হলেও এতে মানুষের জন্য ঝুঁকির মাত্রা খুব সামান্য। তারা জানান, জীবন্ত ভাইরাস পাওয়া গেলে সেটি উদ্বেগ ও শঙ্কার কারণ হতো। তবে এনিয়ে বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োহন আছে। জেনিটিক উপাদান থেকে ভাইরাস পূণর্জন্ম নিতে পারে না।
১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম বার্ড ফ্লু এ বা এইচফাইভএন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে ২০২০ সাল থেকে বার্ড ফ্লু আক্রান্ত পাখির সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। তখন থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়তে দেখা গেছে। সেই বছর মার্চ মাসে গরু ও ছাগলও এ তালিকায় যুক্ত হয়।
