ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের পাঁচ জেলায় শর্তসাপেক্ষে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে। তবে মোবাইল ডেটা ব্যবহারের ওপর এখনও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ইম্ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের জেরে রাজ্যটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার ফের চালু হলো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।
ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া পাঁচটি জেলা হলো- ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, থৌবল, বিষ্ণুপুর এবং কাকচিং।
এর আগে মঙ্গলবার ইম্ফলে মণিপুর রাজ্যের গভর্নরের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিলো ছাত্র-জনতার। স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে মিছিল গভর্নর হাউসের কাছাকাছি পৌঁছালে সেখানে মোতায়েন থাকা পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। প্রায় এক ঘণ্টার সংঘর্ষ শেষে দুপুর ২টার দিকে ছাত্র-জনতাকে পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

ওই ঘটনার পরপরই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী পাঁচদিন রাজ্যজুড়ে বন্ধ থাকবে সমস্ত ইন্টারনেট এবং মোবাইল ডেটা পরিষেবা।
গত কয়েক দিনে রাজ্যটিতে বিদ্রোহীদের সাথে দফায় দফায় গুলিবিনিময় হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে একাধিক অঞ্চলে। এসব ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মণিপুরের চলমান সংঘাত বন্ধে দেশটির কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার।
২০২৩ সালের মে মাসে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায়ের সংঘাত শুরু হয়। সাম্প্রদায়িক সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এ সহিংসতায় আরও ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সুইস ব্যাংকে থাকা আদানি গ্রুপের ৩১ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত