দীর্ঘদিন পর জুম্মার খুতবায় দাড়ালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। আর এই খুতবায় দাঁড়িয়ে আগামীর যুদ্ধে সব মুসলমানদের এক হওয়ার ডাক দিলেন তিনি। প্রয়াত হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ স্মরণে প্রায় ৫ বছর পর খুতবা দিলেন তিনি।
সর্বোচ্চ নেতাকে এক নজর দেখতে শুক্রবার জুমার নামাজে তেহরানে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের যেই আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে সেটিকে সত্যি বললেন খামেনি। আর এই যুদ্ধে মুসলিমদের এক হতে বললেন সর্বোচ্চ নেতা।
বজ্রকণ্ঠে খামেনি বলেন, ইরান, ফিলিস্তিন, লেবানন, মিশর, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ‘শত্রু এক। তিনি বলেছেন, এই শত্রুপক্ষ মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন ও ঘৃণার বীজ বপন করতে চায়।
সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, আমাদের শত্রুপক্ষ মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ ছড়িয়ে দিতে বিভাজন ও ঘৃণার বীজ বপন করার নীতি অবলম্বন করে। একই পক্ষ আবার ফিলিস্তিনি, লেবাননি, মিসরীয় ও ইরাকিদেরও শত্রু। তারা ইয়েমেনি ও সিরীয়দের শত্রু। আমাদের শত্রু একই। পাশাপাশি ইসরাইলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর করা হামলাকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা।
খুতবায় জড়ো হওয়া মুসল্লিদের কারও কারও হাতে ছিলো হিজবুল্লাহর সবুজ এবং হলুদ পতাকা। আবার কারও কারও হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। খুতবায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বার্তাকে যুদ্ধের ডাক হিসেবেই ভাবছে মুসলিম বিশ্ব।

এর আগে ২০২০ সালে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কুর্দস ফোর্সের প্রধান কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার পর শেষবার প্রকাশ্যে খুদবা দেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার প্রকাশ্যে যুদ্ধের ডাকে বোঝাই যাচ্ছে সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে ইসরাইলসহ পশ্চিমাদের সামনে।
ইসরাইল যদি ইরানে হামলা করে তাহলে এর প্রত্যাঘাত কতটা কঠিন হবে সেটি হয়তো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবে না ইসরাইল এবং তার পশ্চিমা বন্ধুরা।
ইসরাইলি বিমান হামলায় বৈরুতে ব্যাপক বিস্ফোরণ