রিকশা চালানো যে শুধু পুরুষের কাজ না সেটাই সবার সামনে তুলে ধরেছেন জাপানের এক তরুণী। ২২ বছর বয়সী ইউকা আকিমোতো সমাজের তৈরি প্রথার দেয়াল ভেঙেছেন। রাজধানী টোকিওর রাস্তায় ছুটে চলেন নিজের রিকশা নিয়ে। তার মতো আরও অনেক নারী রিকশাচালক রয়েছেন জাপানে। আর তাদের মাসিক আয় অবাক করবে যে কাউকে।
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে টোকিওর ব্যস্ত রাস্তায় দুই চাকার রিকশা নিয়ে ছুটে চলছেন ২২ বছরের জাপানি তরুণী আকিমোতো। টোকিওতে হাতেগোনা যে ক’জন রিকশাচালক রয়েছেন আকিমোতো তাদেরই একজন। শুধু রিকশা চালানো না, এর পাশাপাশি পর্যটকদের স্থানীয় সংস্কৃতি বুঝাতে সাহায্য করেন তিনি।
টোকিওর ডিজনিল্যান্ডে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন আকিমোতো। কিন্তু করোনা মহামারিতে সেখানে কাজের সুযোগ আর হয়নি। নতুন করে কাজের খোঁজ করেন তিনি। খুঁজে বের করেন রিকশা চালানোর কাজ।
চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমের পর এ কাজে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণে শেখানো হয়েছে কীভাবে দুই চাকার রিকশায় ২৫০ কেজি ওজন নিয়ে টানতে হয়।
ইউকা বলেন, ‘গত আড়াই বছর ধরে বেশ আনন্দের সঙ্গে আমি রিকশা চালাই। প্রথমে আমার জন্য রিকশা চালানো অত্যন্ত কঠিন ছিলো। তবে হাল ছাড়িনি।’
ঐতিহ্যগতভাবে রিকশা চালানো পুরুষদের পেশা হলেও বর্তমানে এই পেশায় নারী চালকদের সংখ্যা বাড়ছে। টোকিওর রাস্তায় গত চার বছরে চারজন থেকে নারী রিকশা চালকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। যা মোট রিকশা চালকদের ৩০ শতাংশ। নারীদের সম্পর্কে গড়পড়তা ধারণা ভাঙাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন আকিমোতো।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ মনে করে এটা শুধুমাত্র ছেলেদের কাজ। তবে আমি মনে করি মেয়েদের ক্যারিয়ারে উন্নতি করার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত পেশা। আমি প্রতিদিন আনন্দের সঙ্গে কাজটি করি। সত্যি খুব চমৎকার একটি কাজ।’
আবহাওয়া যেমনই হোক না কেনো, আকিমোতো ও তার সহকর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ কিলোমিটার রিকশা চালান। তাই থাকতে হয় শারীরিক দৃঢ়তাও। এছাড়া একজন চালকের টোকিও সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে অগাধ। তাদের হতে হবে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং স্পষ্টভাষী।
জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য পুরুষ রিকশা চালকদের মতো নারীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন। সবচেয়ে দক্ষ ও জনপ্রিয় চালক প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৬ হাজার ডলারের বেশি আয় করেন, যা জাতীয় পর্যায়ের মাসিক মজুরির তিনগুণ।
